চিহ্নিত গোষ্ঠীর খপ্পরে পড়েছেন সাবের

0
36
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে নাটকীয়তার শেষ নেই। নির্বাচন ও সংবিধান নিয়ে প্রশ্নের জটলা বাড়ছে দিন দিন। গত রোববার সম্মিলিত পরিষদ নামে ১৪ সদস্যের প্যানেল ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। কিন্তু মঙ্গলবার নির্বাচন বয়কট করেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের উপর সম্মান রেখে তিনি এ কাজ করেছেন বলে জানান। তবে বিসিবির বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের মতে, সাবের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এসব কাজ করছেন না। কোনো চিহ্নিত গোষ্ঠীর খপ্পরে পড়ে নির্বাচনের বিরোধিতা করছেন সাবেক এই সভাপতি।
সাবের নির্বাচন বয়কটের একদিন পরই বুধবার শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন নাজমুল। সেখানে নির্বাচন নিয়ে নানা অজানা বিষয় খোলাসা করেন তিনি।
সাবেরকে দিয়ে কোনো একটি গোষ্ঠী স্বার্থোদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করেন বিসিবির বর্তমান সভাপতি।
তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত সাবের ভাই একটি গোষ্ঠীর ( ফোরাম) খপ্পরে পড়েছেন। তাই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তাকে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে  কোনো নির্বাচনের সময় ফোরামের আর্বিভাব হয়। এই ফোরামের চার থেকে পাঁচ জন লোক বিভিন্ন ঝামেলার সৃষ্টি করে। ওই ধরনের চক্রান্তকারী গোষ্ঠী থেকে সাবেরকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান নাজমুল এবং বলেন, আমি সাবের ভাইকে বলবো ওই গোষ্ঠী থেকে বের হয়ে সত্যটা উন্মোচন করতে। আমি নিশ্চিত এসব ষড়যন্ত্র সাবের ভাই করছেন না। ওনাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আর এ কারণেই উনি আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এভাবে বিসিবি নির্বাচন হলে তা বৈধ্য হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা যে অভিযোগ তুলেছে তা শতভাগ মিথ্য। কারণ আদালত যে রায় দিয়েছে সেটা মেনেই নির্বাচন হচ্ছে। বরং তারা আদালতের দোহাই দিয়ে যে মিথ্য অভিযোগ করছে সেটাই আদালত অবমাননার শামিল।
এছাড়া ফোরাম থেকে আসা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন মনে করেন বর্তমান এ্যডহক কমিটির সভাপতি। জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি নকল প্যাড সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা নির্বাচনকে কলুষিত করতে বিসিবির তৈরি প্যাডের নকল বানিয়েছে। শুধু তাই নয়, নম্বরটিও পাল্টে দিয়েছে। এমনকি তারা দু’মাস আগের স্বাক্ষর করা চিঠি এনএসসিকে পাঠিয়েছে, যাতে করে নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
নাজমুল বলেন, ওনারা চান ৬৪ জেলা থেকে ৬৪ জন কাউন্সিলর দেওয়া হোক। আর সাত বিভাগ থেকে দেওয়া হোক সাতজন কাউন্সিলর। কে সভাপতি হবে সেটা তারা ঠিক করবে। যাতে করে ওনারাই বিসিবিতে রাজত্ব করতে পারে।
ফোরামের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা ও অভিযোগ নাজমুলের কণ্ঠে। ২০০১ সালে নির্বাচন নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার কপি সাংবাদিকদের দেখান তিনি। বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ (ফোরাম) সম্পর্কে নাজমুল বলেন, ক্রিকেট বোর্ড থেকে ওনাদের বিতাড়িত করতে হবে। নয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। সাবের ভাইয়ের বিপক্ষে আমরা কেউ নেই। ওই গোষ্ঠীর ( ফোরাম) সঙ্গে আমাদের যত বিরোধ। তাদের সঙ্গে আমাদের আপোস করার প্রশ্নই ওঠে না।
জেলা ও বিভাগীয় ফোরাম নিয়ে তিনি বলেন, জেলা ও বিভাগীয় ফোরাম অবৈধ সংগঠন। তাদের রেজিস্ট্রেশন নেই। ফোরাম গঠন করে তারা দেশের ক্রিকেট ধ্বংস ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কারণ ফোরাম বৈধ পথে থাকলে এর সব সদস্য তাদের সঙ্গে থাকতো। কিন্তু ফোরামের বেশির ভাগ সদস্যই তো এখন আমাদের সঙ্গে আছে।
১০ অক্টোবর নির্বাচনের তারিখ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হলো সংবাদ সম্মেলনে। এনিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, এটা আমারও প্রশ্ন। নির্বাচনের তারিখ তো বিসিবি দেয়নি, দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেনের সঙ্গে বিরোধ কোথায় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,সাবের ভাইয়ের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। তিনি যে রাজনীতি করেন আমিও সে রাজনীতিই করি। দেশের ক্রিকেটে তার অনেক অবদান। কিন্তু এখন তিনি ভুল পথে হাঁটছেন। কারণ তার পাশে যারা আছে সবাই ক্রিকেট নষ্ট করতে চান। এখন তিনি বিসিবি সভাপতি হওয়ার জন্য ভুল পথে এগুচ্ছেন।
আগামী ১৭-১৮ অক্টোবর আইসিসির সভা রয়েছে। ওই সভায় বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন বলে আশাবাদী নাজমুল। তিনি বলেন, আমি সভাপতি থাকি আর না থাকি সেটা বড় কথা নয়। আমি চাই সেই মিটিংয়ে একজন নতুন নির্বাচিত সভাপতি যোগ দেবেন। সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নির্বাচিত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলে ওনারা নিশ্চিত হবেন যে গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই নির্বাচন হয়েছে।

শেয়ার করুন