মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাকার ফাঁসি

0
66
Print Friendly, PDF & Email

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার ১৭২ পৃষ্ঠার রায় পড়া চলছে। মঙ্গলবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করা হবে।

প্রথমেই রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক। সাকার বিরুদ্ধে ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ১, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২ ও ২৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

প্রমাণিত কয়েকটি অভিযোগ: রাউজনের গহিরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে সাকা চৌধুরীর উপস্থিতিতে হিন্দু পাড়ায় ব্রাশফায়ারে হত্যার ২ নম্বর। প্রামাণিত হয়নি সাকার সহযোগীর মাধ্যমে ৫ জনকে গুডস হিলের নির্যাতনকেন্দ্রে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রথম অভিযোগ। কুণ্ডশ্বরী ঔষধালয়ের কর্ণধার অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহকে সাকার নির্দেশনায় প্রার্থনারত অবস্থায় ব্রাশফায়ার হত্যার ৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত। হিন্দুঅধ্যাষিত জগৎমল্লাপাড়ায় গণহত্যার ৪ নম্বর, রাউজানের সুলতানপুরে গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগে করা ৫ ও রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় ৭০ জনকে হত্যার ৬ নম্বর অভিযোগ ছাড়াও ৭, ৮, ১৭ ও ১৮ প্রমাণিত হয়েছে।

সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের দুটি প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ওই এলাকায় বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সংশ্লিষ্টদের তল্লাশি করে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।

সকালে সাকা চৌধুরীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের আনা হয়। বিএনপির কোনো নেতার বিরুদ্ধে এটাই হবে এ ধরনের মামলায় প্রথম রায়। এর আগে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে জামাতের ৬ নেতার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

সাকা চৌধুরীর মামলায় রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের তৃতীয় মামলার রায় ঘোষণা করবে। আর দুই ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে এটি হবে সপ্তম রায়।

এটি ট্রাইব্যুনালের অন্যতম আলোচিত মামলা। বিচার চলাকালে নানা মন্তব্য ও বক্তব্য দিয়ে সব সময় আলোচনায় ছিলেন সাকা চৌধুরী। বিচারকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, আসামির কাঠগড়ায় বসে বিচারকাজ, সাফাই সাক্ষী ও চলমান রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা, আইনজীবীকে বাদ দিয়ে নিজেই মামলা পরিচালনা করা—বিচার চলাকালে এজলাসে এমন বহু ঘটনার জন্ম দেন তিনি। তাই রায়ের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত দিনে তিনি কী করতে পারেন তা দেখার বিষয়।

গতকাল সোমবার এ রায়ের দিন ঠিক করে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় এ মামলা ৪ নম্বরে রয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট এ ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। ওই দিন রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে ট্রাইব্যুনাল জানায়, যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে।

ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ২৩টি অভিযোগই সকল সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণিত হয়েছে। তাই সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করছেন তারা। এদিকে, খোদ ট্রাইব্যুনালকে অবৈধ মন্তব্য করেও সাকা চৌধুরীর বেকসুর খালাস দাবি করেন তার আইনজীবী।

শেয়ার করুন