‘জালজালা জাজিরা’য় কৌতূহলী মানুষের ভীড়

0
47
Print Friendly, PDF & Email

 ‘বিপ্লব ধ্বংসের তাণ্ডবলীলা নয়, সৃষ্টির প্রসব বেদনামাত্র’- বিপ্লবীদের এমন স্লোগান সংবাদের এই শিরোনামের সঙ্গে না গেলেও, ধ্বংসস্তুপের মধ্য থেকেই যে নতুন অনেক কিছুর সৃষ্টি সে বিষয়ে তেমন দ্বিমত নেই।

ধ্বংসস্তূপের মাঝে থেকেই মানুষ ঘুরে দাঁড়ায় বারবার। এখান থেকেই শিক্ষা নিয়ে নতুন আগামীর বিনির্মাণে এগিয়ে যায়। সপ্তাহখানে আগে পাকিস্তানে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পও যেন তেমন এক শিক্ষা রেখে গেছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বালুচিস্তান ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পে পাঁচ শতাধিক নিহত এবং আহত হয়েছে হাজারের কাছাকাছি। বড় ধরনের এই ভূমিকম্পে প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ।

ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় শোকাহত পাকিস্তানিরা যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন তাদের মনে অন্যরকম এক স্পর্শ এঁকে দিয়েছে ভূমিকম্পে গোয়াদর উপকূলে আরব সাগরে জেগে উঠা কাদা গঠিত দ্বীপ।

গোয়াদর উপকূল থেকে ৩৫০ ফুট দূরেই ৪০ বর্গফুটের মতো দ্বীপটির সৃষ্টি হয়েছে। এটি সাগরের পানি থেকে ২০ থেকে ৩০ ফুট উচু। অনেকটা কাদার মাটি দিয়ে এই দ্বীপ গঠিত।

ভূমিকম্পের ভয়াবহতার মধ্যই এই দ্বীপটি নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই পাকিস্তানিদের মধ্যে। ভূমিকম্পে সৃষ্টি বলে এর না দেয়া হয়েছে ‘জালজালা জাজিরা বা ভূমিকম্পের দ্বীপ।’

ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট এই কাদার দ্বীপ দৃষ্টিগোচর হওয়ার পরপরই সেখানে ভিড় শুরু করে পাকিস্তানিরা। অনেকে সেখানে গিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পতকাও উড়িয়েছে। আর দ্বীপটি এখন অনেকটা পর্যটনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যদিও এর স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় খোদ বিজ্ঞানীদের।

সর্বশেষ নাসার পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট-১ এর ধারণ করা ছবিতে দ্বীপটির অবস্থান দেখা যায়। এই স্যাটেলাইটের তোলা ১৭ এপ্রিলের ছবিতে সেখানে পানি ছাড়া অন্যকিছুর অস্তিত্ব দেখা না গেলেও, ২৬ সেপ্টেম্বরের ছবিতে দ্বীপটি অস্তিত্ব ফুটে উঠে।

শেয়ার করুন