কত কিছুই না দেখলাম

0
71
Print Friendly, PDF & Email

১৩৫ বছর বয়সেও একজন শক্ত সামর্থ্য মানুষ চান মিয়া। এখনও হেঁটে চলাফেরা করেন। চোখের দৃষ্টিশক্তি সামান্য ক্ষীণ হয়ে এলেও শ্রবণ শক্তি ও কথাবার্তায় কোন জড়তা নেই। তিনি বলেন, বাবারে কত কিছুই দেখলাম। বিটিশ দেখলাম, পাকিস্তান দেখলাম, বাংলাদেশও দেখছি। কেউ সুখে নাই। যতদিন বাঁচি আছি আরও কত কিছু দেখব। কষ্ট হয়, ভাত-কাপড়ের জন্য মানুষ খুন হয়, না খেয়ে মরে। তাই বলি, দেশের মানুষ কতদিনে সুখী হবে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার চানপাড়া গ্রামে বসবাস করেন চান মিয়া। জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্ম তারিখ ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দের ১লা জানুয়ারি। সে হিসাব অনুসারে তার বর্তমান বয়স প্রায় ১৩৫ বছর। চান মিয়া বলেন, ছেলেমেয়ের কাছ থেকে কোন আর্থিক সহযোগিতা পান না। ৩ মাস পর পর ৯০০ টাকা বয়স্ক ভাতা এবং দোয়া কালাম ও ঝাড়ফুক করে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে জীবনযাত্রা চলে যাচ্ছে। দু’বছর থেকে ভাত খান না বললেই চলে। চা-নাস্তা খেয়ে সুস্থ সবলভাবে বেঁচে আছেন। তিনি ১৯ বার ভারতের আজমীর শরীফ গেছেন। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন পীরের মাজারসহ নানান স্থানে যান। কিন্তু কখনও টাকার সমস্যায় পড়েননি। ৩ বার প্রাণে বেঁচে গেছেন। আল্লাহ তায়ালাই তার সব সমস্যার নিরসন করেছেন বলে জানান। চান মিয়া জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান জামালপুর জেলার এগারো সিন্ধু গ্রামে (ঈশা খাঁ দুর্গের পূর্ব পাশে)। পারিবারিক অভাবের তাড়নায় ১১ বছর বয়সে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পিতা-মাতা ছেড়ে ছোট খালা জোবেদা বিবির সঙ্গে তার স্বামীর বাড়ি ভারতের আসাম প্রদেশের নোয়াগাঁ জেলার হয়বর থানাধীন খুদিকুটিয়া গ্রামে যান। সেখানে দীর্ঘ ২৩ বছর কাটিয়ে ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসেন। কিন্তু নিকটজনদের জীবিত না পেয়ে মন উদাস হয়ে পড়ে তার। এ জন্য সেখানে ১৪ দিন কাটিয়ে বিবাগী হয়ে সেদিনের বন-জঙ্গলে ভরা পঞ্চগড়ে এসে বসতি গড়েন। সে থেকে এখন পর্যন্ত পঞ্চগড়েই আছেন। তার স্ত্রী প্রায় ৪০ বছর আগে মারা গেছেন। তার ৭ ছেলে ও এক কন্যার ঘরে ৩০ জনের মতো নাতি-নাতনি।

শেয়ার করুন