মহাজোট সরকারের হিসাব-নিকাশ : হিমালয়সম ব্যর্থতা, যত্সামান্য অর্জন

0
93
Print Friendly, PDF & Email

একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে মানুষ নতুন আশায় উদ্দীপ্ত হয়। মানুষ আশা করেন, তার সুযোগ-সুবিধা বাড়বে, দৈনন্দিন জীবন উপকৃত হবে এবং দেশের কল্যাণ হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরের শাসনামল মানুষকে শুধুু আশাহতই করেনি, একের পর এক ভয়াবহ বিপদেও ফেলে দিয়েছে। মহাজোট সরকারের পুরো মেয়াদের হিসাব-নিকাশ করলে যে চিত্র পাওয়া যাবে, তা এক কথায় হিমালয়সম ব্যর্থতা, অর্জন যত্সামান্য। এ সময়টি ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি ভয়ঙ্কর সময়। একটি সরকার যে কত নিকৃষ্ট, নিষ্ঠুর এবং বিপজ্জনক হতে পারে—তার বড় প্রমাণ শেখ হাসিনার সরকার। দেশের মানুষের মুখে গুঞ্জন উঠেছে পিতা শেখ মুজিবের ১৯৭২-৭৫ শাসনকালকেও ছাড়িয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। তার শাসনকাল দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট শাসনের একটি নজির সৃষ্টি করেছে। এ সময়ে সুশাসন নির্বাসনে গেছে। রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে পুতুলখেলার বস্তুতে। দুর্নীতি মুখ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিচারের বাণী কেঁদেছে নীরবে নিভৃতে। মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত চরম শঙ্কা, উত্কণ্ঠা ও দীর্ঘশ্বাসে কেটেছে। দুর্নীতি, লুটপাট, খুন, গুপ্তহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চূর্ণ হয়ে গেছে। সরকার তার অপকর্মের দ্বারা বারবার বিড়ম্বনায়ও পড়েছে। কিন্তু এ থেকে শিক্ষা নেয়নি, বরং আরও বেশি করে খারাপ কাজটি করেছে।
শেয়ারবাজার লুটপাট, হলমার্ক ও ডেসটিনির জালিয়াতি, রেল ও পদ্মা সেতুর দুর্নীতি, পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের তাণ্ডব, সাগর-রুনি ও বিশ্বজিতের হত্যা, গুম-ক্রসফায়ার, বিভিন্ন ব্যবসা, চাকরি ও সুযোগ কুক্ষিগতকরণ, দ্রব্যমূল্য ও বিদ্যুতের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বিরোধী দল, গণমাধ্যম ও ভিন্নমতের প্রতি চরম অসহিষ্ণুতা, মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতাদের অসংযত বক্তব্য, প্রশাসন দলীয়করণ এবং ভিন্নমতের সরকারি কর্মকর্তাদের ঢালাও ওএসডি ইত্যাদি কুশাসনের দ্বারা সরকার আজ জনগণের কাছে চরমভাবে ঘৃণিত।
পাশাপাশি ভারতের পদতলে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে এ সরকার। ভারতকে ট্রানজিট প্রদান, তিতাস নদীতে বাঁধ, টিপাইমুখে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বাঁধ, তিস্তার পানি চুক্তি না হওয়া, স্থলসীমানা চুক্তি নিয়ে ছলচাতুরী, সীমান্তে হত্যা ও কিশোরী ফেলানীর খুনির প্রহসনের বিচার মানুষকে স্তম্ভিত করেছে।
পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢালাও বিদেশ সফরে রাষ্ট্রীয় টাকার অপচয় অতীতের সব আমলকে ছাড়িয়ে গেছে।
তবে এ সময়ে সরকারের যত্সামান্য অর্জন যা চোখে পড়ে তা হচ্ছে, রাজধানীতে কয়েকটি ফ্লাইওভার হয়েছে, এক-এগারোর সরকার হাতিরঝিলে যে প্রকল্প নিয়েছিল তা চালু হয়েছে। বিনিয়োগ না বাড়লেও সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক ছিল ইতিবাচক এবং কাগজে-কলমে বিদ্যুতের উত্পাদন বেড়েছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত শেখ মুজিবের শাসনকাল অপশাসনের কালো অধ্যায় হয়ে আছে। সেই সময়ের রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ, দুর্নীতি-কালোবাজারি-লুটপাট এবং দুর্ভিক্ষের কথা মানুষ ভোলেনি। ভোলেনি ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা।
কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনকাল মুজিবের শাসনকেও হার মানিয়েছে। মানবাধিকার হরণ এবং ফ্যাসিবাদের ক্ষেত্রে বাবার চেয়েও ভয়ঙ্কর রূপে মানুষ দেখেছে মেয়ে শেখ হাসিনাকে। দ্বিতীয় মেয়াদের শাসন হার মানিয়েছে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদের (১৯৯৬-২০০১) শাসনকালকেও।
শেখ হাসিনা সরকার অলীক স্বপ্ন দেখিয়ে এবং মিথ্যাচার করে জনগণকে হতাশই শুধু করেনি, অনিশ্চিত গন্তব্যে ঠেলে দিয়েছে। পরিবর্তনের স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাসীনরা শুধু নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। জিনিসপত্রের দাম কমানোর অঙ্গীকার থাকলেও লাগামহীনভাবে বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। দশ টাকা কেজি চাল, বিনামূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি স্বপ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে অপহরণ, গুম, গুপ্তহত্যা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
প্রতিশ্রুতির বিশাল বহর দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির কথা সরকার কানেই নেয়নি, অনেক ক্ষেত্রে অস্বীকারও করেছে। অনেক আর্থিক কেলেঙ্কারি ব্যর্থতা আকাশ ছুঁয়েছে। দুর্নীতির জন্য পদ্মা সেতু তো ডুবলই, উপরন্তু আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের কপালে আবারও জুটল দুর্নীতির কলঙ্ক তিলক। পাঁচ বছরে বিরোধী দল ও বিরোধী মতের দমন, দুষ্টের লালন, গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, দখল, হামলা-মামলা, দলীয়করণ, মিডিয়া দলনের নতুন নজির সৃষ্টি হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের এই আমলে গুমের ঘটনা ভয়ঙ্কর আতঙ্ক হিসেবে দেখা দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলম এবং শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামসহ দেড় শতাধিক ব্যক্তি গুম হয়েছেন।
দুর্নীতি ও লুটপাট এমন পর্যায়ে গেছে যে, সেটা এখন আর দেশের মানুষ এবং বিরোধী দলই শুধু বলছে না, দাতা দেশ এবং বিদেশি সংস্থাগুলোও জোরালোভাবে বলছে। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন বাতিল করে দিয়েছে।
সরকারি দলের ক্যাডার, বিশেষ করে ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য শিক্ষাঙ্গনের গণ্ডি পেরিয়ে দেশব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে। ছাত্রলীগ ফ্রাংকেনস্টাইনের দানব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একইভাবে চলেছে যুবলীগের তাণ্ডব।
সাংবাদিক নির্যাতন, হত্যা ও মিডিয়া দলনের ক্ষেত্রেও সরকার নিকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। পাঁচ বছরে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাসহ ১৯ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই হাজার সাংবাদিক। চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমার দেশ দু’দফায় বন্ধ করা হয়েছে। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে প্রথম দফায় দশ মাসেরও বেশি সময় কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। দ্বিতীয় দফায় তাকে বিনা বিচারে জেলে রাখা হয়েছে এবং ১৬ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হয়েছে। একজন পত্রিকা সম্পাদককে এভাবে নির্যাতন করার নজির কোনো সভ্য জগতে নেই।
সরকার দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনও বন্ধ করে শত শত সাংবাদিককে বেকার করে দিয়েছে। হুমকি এসেছে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোর ওপর। আক্রমণের শিকার হয়েছেন টকশোতে আসা বিশিষ্ট নাগরিকরা। সব ক্ষেত্রেই মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। ভূলুণ্ঠিত হয়েছে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। বিরোধী দলকে মিছিল-মিটিং করতে দেয়া হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর অফিস পর্যন্ত পুলিশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
এ সরকারের আমলে অপরাধের কোনো বিচার হয়নি। ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীরা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেছে। ছেড়ে দেয়া হয়েছে ফাঁসির আসামিদেরও। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মী দিয়ে জেলখানা ভরে ফেলা হয়েছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের প্রায় আট হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে ওইসব মামলা থেকে ক্ষমতাসীন দলের প্রায় এক লাখেরও বেশি আসামি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। বিপরীতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক কথায় একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে মানুষকে জীবননির্বাহ করতে হচ্ছে।
পাঁচ বছরের বছরওয়ারি যত অপকর্ম : বিরোধী দলে থাকাকালে একের পর এক দাবি ও দফা উত্থাপনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলকে পর্যুদস্ত করার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের যেমন জুড়ি নেই, তেমনি একই কৌশলে ক্ষমতায় থাকাকালে নিজেদের যাবতীয় ব্যর্থতা ঢাকতে এবং জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে একের পর এক অপকর্ম করার সুখ্যাতিও তাদের আছে দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালে ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের জরুরি জমানার সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রশ্নাতীত না হলেও এ বিজয়কে জনগণের রায় হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। এ বিজয়ের পর পাঁচ বছরে অপকর্মের একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শেখ হাসিনা সরকার। এ সময় তারা সৃষ্টি করেছে শুধু ইস্যু আর ইস্যু। এর মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন নিজের সীমাহীন ব্যর্থতাকে আড়াল করতে চেয়েছে, তেমনি বিরোধী দলকেও রেখেছে নানারকম চাপের মধ্যে। এ সময় এমন সব ঘটনা ঘটেছে, যার একটিই সরকারের পতনের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু জনগণের আরও কষ্ট ভেবে বিরোধী দল হরতাল অবরোধ অসহযোগের মত কর্মসূচি নেয়নি।
পাঁচ বছরে শেখ হাসিনা সরকার শতাধিক অপকর্ম বা ইস্যু সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে প্রথম বছর ২০০৯ সালে সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো—বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি, ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ভারতীয় পুলিশ আসা, উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের হাতে তুলে দিতে সরকারের সম্মতি, উলফা নেতা রাজখোয়ার আত্মসমর্পণ ও দিল্লির কাছে হস্তান্তর, সেনাবাহিনীতে কওমি মাদরাসার ছাত্র থাকার অভিযোগ, ভিন্নমত দমনে একের পর এক এজেন্ডা বাস্তবায়ন, ৩০ বছর পর জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা থেকে মুছে ফেলা, গভীর রাতে স্টেডিয়াম থেকে জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলা, মুজিব পরিবারের নিরাপত্তা আইন পাস, ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করে তথাকথিত ডিজিটাল সময় চালু, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলকে ভারসাম্যহীন ঘোষণা করা, বিডিআরের মতো আরও বিদ্রোহ হতে পারে বলে সংসদে শেখ হাসিনার বক্তব্য, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে হত্যাচেষ্টা নিয়ে রাজনীতি এবং আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকি প্রদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
দ্বিতীয় বছর অর্থাত্ ২০১০ সালে সরকারের সৃষ্ট অপকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে—সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে উচ্ছেদ, আমার দেশ বন্ধ এবং পত্রিকা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন ও ১০ মাসের বেশি সময় জেলে বন্দি করে রাখা ইত্যাদি।
সরকারের তৃতীয় বছর বা ২০১১ সালে সৃষ্ট অপকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে ঢাকাকে দুই ভাগ করা, অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক উপায়ে দেশের ৬১টি জেলায় প্রশাসক হিসেবে সরকারদলীয় নেতাদের নিয়োগ, ফাঁসির আসামি বা খুনিদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ঘোষণা এবং মন্ত্রী কর্তৃক ফুলের মালা দিয়ে বরণ, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে বেসরকারি সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণ এবং পরে তার বিরুদ্ধে কুত্সা রটনা ও মামলার হুমকি প্রদান, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি, শেয়ারবাজার লুটপাট করে ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে সর্বস্বান্ত করা এবং পরে এ নিয়ে রাজনীতি, আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ এবং এর বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণ, নরসিংদীর লোকমান হত্যাকাণ্ড, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়া এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, গুপ্তহত্যা, গণপিটুনিতে হত্যা এবং সীমান্তে বিএসএফের নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড।
সরকারের মেয়াদের চতুর্থ বছর অর্থাত্ ২০১২ সালটি আগের তিন বছরের সব অপকর্মকে ছাড়িয়ে যায়। এ সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারকে তাদের একটি সাফল্য বলে প্রচার করে। কিন্তু এই বিচারকে তারা যে একটি প্রহসনে পরিণত করে, তা প্রকাশ হয়ে পড়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ কেলেঙ্কারির ঘটনায়। এই কেলেঙ্কারি ফাঁস করে দেয় দৈনিক আমার দেশ ও লন্ডনের দ্য ইকোনমিস্ট। এই কেলেঙ্কারির মাধ্যমে প্রমাণ হয় সরকার বিচার বিভাগকে প্রহসনে পরিণত করেছে এবং যোগসাজশের মাধ্যমে বিচার করছে। এ ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারক পদত্যাগ করেন। বিচারপতির এই স্কাইপ কেলেঙ্কারি ছিল বছরের সাড়াজাগানো ঘটনা। এটা শেখ হাসিনা সরকারই ঘটিয়ে গোটা বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়।
দুর্নীতির জন্য সৈয়দ আবুল হোসেন মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন। তিনি ২০১১ সালে এবং ২০১২ সালে দু-দুবার দুর্নীতির জন্য গণমাধ্যমে আলোচিত চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হন। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনাটি প্রমাণ হওয়ায় এটি বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয় এবং বিশ্বব্যাংক ঋণ সহায়তা বাতিল করে দেয়।

শেয়ার করুন