আমাকে নিয়ে বিতর্ক চলছে, আমি ভেরি হ্যাপি : মুন্নী সাহা

0
67
Print Friendly, PDF & Email

‘নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী টিভি সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে নিয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে হঠাৎ করে সংবাদ হলো তিনি প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর একটি সাক্ষাৎকার গোপণে ধারণ করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ নিয়ে প্রথমে একটি পত্রিকা তাদের অনলাইন সংস্করণে একটি সংবাদ প্রকাশ করলো যে, তিনি অফ দ্য রেকর্ড কিছু কথা গোপনে ভিডিও করেছিলেন। পরে সেই রেকর্ডের টেপটি নিরাপত্তারক্ষীরা জব্দ করেছেন। কিন্তু সেই পত্রিকার ওই সংবাদে সাংবাদিক মুন্নী সাহার কোনো বক্তব্য ছিল না। এরপরই অনেক গণমাধ্যমে সংবাদটি আসে। অনেক সংবাদে মুন্নী সাহার বক্তব্যও ছিল। তিনি সেখানে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন যে, সাক্ষাৎকারটি অনুমতি সাপেক্ষে নেয়া। কোনো বিব্রতকর ঘটনা সেখানে ঘটেনি। তারপরও ধোঁয়াশা শেষতক কাটেনি, সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে জোর আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। এ পরিপ্রেক্ষিতেই পরিবর্তন ডটকমের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে মুন্নী সাহার সাথে যোগাযোগ করা হয়। সেদিন আসলে কী হয়েছিল, ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার মতো কিছু কি ঘটেছিল সেই দিন? কেনইবা এমন সংবাদ ছড়াচ্ছে তাকে নিয়ে? এসব প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দিয়েছেন মুন্নী সাহা। নিউইয়র্কে অবস্থানরত মুন্নী সাহা এ ব্যাপারে রবিবার রাতে (বাংলাদেশ সময়) একটি টেলি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন পরিবর্তন ডটকমকে। এটি নিয়েছেন পরিবর্তনের স্টাফ রিপোর্টার যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ।

পরিবর্তন : দেশের সকল মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, আপনি গোপনে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও করার চেষ্টা করেছেন। এটা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড়ও হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি যে, আপনি পুরো ব্যাপারটি পরিস্কার করুন। সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক। যেহেতু বিষয়টি এখন গুরুতর হয়ে উঠেছে।

মুন্নী সাহা : আপনাদের সাথে গতকালও কথা বলেছি তো!

পরিবর্তন : আপনার বক্তব্য নিয়েই আমরা নিউজটা করেছিলাম। এখন ছোট্ট একটা সাক্ষাতকার নিতে চাই।

মুন্নী সাহা : পরিস্কার করতে হবে কেনো বলেন! কী পরিস্কার করবো আমি?

পরিবর্তন : আসলে ঠিক কী ঘটেছিলো সেদিন?

মুন্নী সাহা : আমি তো একজন রিপোর্টার। সেদিন ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলাম। ইন্টারভিউ নিয়েছি। ইন্টারভিউয়ের পরে ইকবাল ভাই বলেছে, নিউজটা দিয়ো না। আমাকে একটু সন্দেহ করছিলো যে, আমি যদি দিয়ে দেই-আমি বললাম। ঠিক আছে, তাহলে টেপ রেখে দেন। রেখে দিয়েছে। এটার মধ্যে তোলপাড় করার কী আছে! আর একজন সাংবাদিকের কাজ হলো, আমি লুকিয়েও (যদি) কিছু করে থাকি; সেটাও একজন বড় ও ভালো সাংবাদিকের কাজ। কূট নিউজ কিভাবে বের করে? যেসব মিডিয়া এসব করছে আমি এটিএন নিউজে থাকলে তা (অহেতুক তোলপাড়) করতাম না। কারণ আমি যেটা করেছি সেটা একজন ভালো সাংবাদিকের কাজ। ওরিয়ানা ফেলাসির (Oriana Fallaci) কথা জানেন, ইরানের খুমিনির (আয়াতুল্লাহ খোমেনি) ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলেন বোরকা পড়ে। তারপর বোরকা খুলে কী করেছে… এ রকম বড় বড় মানুষের কথা আমরা জানি। যদিও আমার ও রকম সৌভাগ্য হয় নাই। আমার কোনো কিছু লুকায়-ছুপায় দেখতি হয়নি। প্রাইম মিনিস্টারের সাথে আমার টাইম দেওয়া ছিলো, ওয়ান টু ওয়ান ইন্টারভিউয়ের। আমার ক্যামেরাম্যান সাথে গিয়েছে। তার নাম আলমগীর হোসেন। তার সাথেও কথা বলে দেখতে পারেন। যারা এটা নিয়ে তোলপাড় করছে, তারা এক ধরণের ইনফ্যারিউরিটি কমপ্লেক্সে ভুগছে-এক ধরনের হীনমন্যতা বোধ করছে। এই কারণে যে, মুন্নী সাহা নিউইয়র্কে এসে প্রধানমন্ত্রীর ইন্টারভিউ পাইয়া গেছে সেই কারণে।

পরিবর্তন : একটি পত্রিকায় দেখেছি যে, প্রথম থেকেই আপনার বক্তব্য ছাড়াই নিউজ করেছে। তারপর তা অন্যান্য মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বেশ কিছু পত্রিকা ও পরিবর্তনসহ অন্য অনলাইন পোর্টালগুলো এ ক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য নিয়েই নিউজ করেছে। তাহলে বিতর্ক ছড়ালো কিভাবে?

মুন্নী সাহা : এটা বিতর্ক কিভাবে হলো? আমি খুবই খুশি এবং বিতর্ক আরেকটু চলতে থাকুক। আমি যথেষ্ট বিখ্যাত বাংলাদেশে। এখন বাংলাদেশে নিউজ ক্রাইসিস চলছে তো, তাই এখন আমাকে নিয়ে নিউজ করতেছে। আমি ভেরি হ্যাপি! এবং সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। বিতর্ক চলুক, চলতে থাকে! আমি এটা চাই। আপনি এটা লেখেন।

পরিবর্তন : বিতর্কটা ছড়ালো কিভাবে?

মুন্নী সাহা : আপনি এটা লেখেন যে, বিতর্কটা চলতে থাকলে আমি খুবই খুশি। কারণ নিউজের ঘাটতি আছে, ভালো কোনো নিউজ পাচ্ছে না; এখন এটি নিয়ে বিতর্ক করতেছে, করতে থাকুক।

পরিবর্তন : যদি এটা সত্য না হয়, তাহলে এই বিতর্ক ছড়ানোর পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা? আপনি বিশেষ কাউকে…

মুন্নী সাহা : আমি বললাম, ইনফ্যারিউরিটি কমপ্লেক্সে বা হীনমন্যতা। বাংলাদেশ থেকে অনেক সাংবাদিক নিউইয়র্কে এসেছে। এখানেও প্রায় পাঁচশ’ সাংবাদিক কাজ করে। প্রাইম মিনিস্টারের ইন্টারভিউ ইজ এ বিগ থিং; ইন্টারভিউ যদি নাও হয়, তার সাথে দশ মিনিট কথা হলেও সেটা বড় বিষয়। এজ এ রিপোর্টার, একজন সাংবাদিক, একজন মানুষ হিসেবে-আই গট দ্যাট চান্স! আমি জানি না আমার ওই ইন্টারভিউ দেখাতে পারবো কি না, বাট আই হ্যাভ এ ভেরি গুড এক্সপিরিয়েন্স! এবং অনেক বড় এক্সপিরিয়েন্স। ভাই, আপনারা না জেনে প্রশ্ন করেন (কিছুটা রাগতস্বরে)। আমি বারবার বলেতেছি যে, আমি টেপটা স্বেচ্ছায় ইকবাল ভাইয়ের সিকিউরিটির হাতে দিয়ে এসেছি, ফেরত দেবেন এই শর্তে।

পরিবর্তন : বিতর্ক ছড়ানোর পর প্রধানমন্ত্রীর সাথে আপনার দেখা বা কথা হয়েছে কি না? তিনি কিছু বলেছেন কি না?

মুন্নী সাহা : বিতর্কটা একচুয়ালি-প্রধানমন্ত্রীর তো খেয়ে দেয়ে কাজ নেই যে, কোথাকার কোন মুন্নী সাহা বিতর্ক ছড়াচ্ছে। সেটা নিয়ে তো প্রধানমন্ত্রীর সময় নেই। আর যদি দেখতেন তবে আমি অবাক হতাম। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী তার নিজের জায়গায় আছেন। উনার এসব আবোল-তাবোল, হাবি-জাবি এগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষিত না হোক। এটাই আমি চাই। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যথেষ্ট সম্মান আছে। দৃষ্টি আকর্ষিত হয়নি, এটাতে আমি অনেক খুশি। তবে ইউএন-এ যেদিন নাকি উনার বক্তৃতা ছিলো তারপরের দিন উনি ছবি তোলার জন্য যখন ঘুরছিলেন তখন উনি আমাকে বলছেন যে, তোমার টেপটা কি রেখে দিছে? আমি শুনলাম সকাল বেলা। ওটা রেখে দিছে কেনো? এখন তুমি আবারও আমাকে জিজ্ঞাসা করো। ওটা উনি আমাকে ঠাট্টা করে বলেছেন। আমার ইন্টারভিউটা করে ফেলো-কে তোমার টেপটা রাখলো; এতো বড় সাহস! এ সবই উনি আমাকে ঠাট্টা করে বলতেছিলেন। তো এটার মধ্যে নাথিং টু ডু উইথ প্রধানমন্ত্রী! উনি আমাকে যা বলেছেন, অনেস্টলি বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর যে বক্তব্য আমার টেপের মধ্যে রেকর্ড করা আছে। এটা উনি সব সময়ই বলেন। এমন কোনো হাতি-ঘোড়া, বাঘ-ভাল্লুক নাই। ঠিক আছে। সুতরাং যারা বিতর্ক করছে-শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে না যেতে পারার বেদনায় বিতর্ক করছে। আমি পরিস্কার করে বলছি।

পরিবর্তন: বিতর্ক ছড়ানোর জন্য আপনি কাউকে অভিযুক্ত করছেন কি না?

মুন্নী সাহা : না না না। অভিযুক্ত কেনো করবো? সকলেই তো আমার সহকর্মী। আরেক দিন আমি ইন্টারভিউ না পেলে আমি এরকম… আমিও এ রকম বিতর্ক তৈরি করব (কিছুটা অভিমানের সুরে)| আমি তো আপনাদের কাতারেই আছি, তাই না? দশজন মানুষ এক সাথে আসবে একজন পাবে আরেকজন পাবে না।

পরিবর্তন: এসএসএফ কেনো ক্যামেরা নিলো? বা আপনি দিয়েই বা দিলেন কেনো? (অনেকের জিজ্ঞাসা)

মুন্নী সাহা: ক্যামেরা না ভাই! ক্যামেরা নিতে পারে না, আপনারা না জেনে প্রশ্ন করেন কেনো? ক্যামেরা কিভাবে নিবে? আমার সাথে দুইটা বড় বড় ক্যামেরা। আমি নিজেই টেপটা দিছি। পরিস্কার করে লেখবেন- টেপটা আমি নিজেই দিছি।

পরিবর্তন: তার মানে- ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়নি, আপনি নিজেই দিয়েছেন?

মুন্নী সাহা: ক্যামেরা না ভাই, ক্যামেরা না। হ্যা কেড়ে নিবে কেন আমার কাছ থেকে? প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমি সময় নিয়ে গেছি। সাংবাদিকতা করলে কিছু নিয়ম জানতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে হুট করে ফট করে পৌঁছানো যাওয়া যায় না। এটা একটা প্রটোকলের মাধ্যমে যেতে হয়। আমার টাইম কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত এগুলো সব ছিল।

পরিবর্তন : আপু, সর্বশেষ একটা প্রশ্ন করবো। বেশিরভাগ গণমাধ্যমে সংবাদ এসছে যে, আপনি গোপনে ক্যামেরা নিয়ে ভিডিও করেছেন। …

মুন্নী সাহা : ভাই আপনি সাংবাদিকতা করেন? আমি খুবই বিরক্ত হচ্ছি আপনার প্রশ্ন পেয়ে। আমি একই প্রশ্নের উত্তর দিলাম। প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাতে.. প্রধানমন্ত্রী কিন্তু রাস্তার হাসিনা বেগম নন। প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীই। তার কাছে যেতে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট থাকতে হয়, তার অ্যাসোসিয়েটরা সকলে জানে কয়টা থেকে কয়টা টাইম থাকে। আমি ইন্টারভিউ নিতে যাবো এটা উনি জানেন, উনার অ্যাসোসিয়েটরা জানে। কোন জায়গায় বসে ইন্টারভিউ দিবো সকলে সব জানে। আমার সাথে ক্যামেরাম্যান আলমগীর হোসেন ছিলেন তার কাছে দুইটা ক্যামেরা নিয়ে লাইভ আমরা স্টুডিওতে যেভাবে ভিডিও করি ওইভাবে করেছি। আপনি যদি সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধিওয়ালা মানুষ হন, তাহলে ভেবে দেখেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে গোপনে ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া যায় কি না? এই ধরনের স্টুপিড প্রশ্ন করাটা খুবই বিরক্তিকর।

পরিবর্তন : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য।

শেয়ার করুন