২৫ অক্টোবরের আগেই নির্বাচনের ‘রূপরেখা’ দেবে সরকার

0
43
Print Friendly, PDF & Email

শেষ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বাদ দিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সরকার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিরোধী দল এর আগে চূড়ান্ত ও কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছুই এগিয়ে নিয়ে যাবে সরকার। ঈদের পর চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগে ব্যাপক ধরপাকড়ের মাধ্যমে বিরোধী আন্দোলন দমনের পথ বেছে নেয়া হবে। এ দিকে ২৫ অক্টোবরের আগেই সরকারের প থেকে নির্বাচনের ‘রূপরেখা’ দেয়া হচ্ছে। ওই রূপরেখায় সরকারের প থেকে সর্বোচ্চ নিরপেতা প্রদর্শন এবং প্রশাসনকে দলীয়ভাবে ব্যবহার না করার প্রতিশ্র“তি থাকবে। এমনকি সরকার হঠাৎ করে নিরপে আচরণ করে বিরোধী দলকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে। বিরোধী দলের একটি পরে সাথে সরকার অন্তরালে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পগুলোর সাথে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশে সব পরে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি অবাধ নির্বাচন দেখতে আগ্রহী। কিন্তু ‘জনমত’ সরকারের বিপে যাওয়ায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছে সরকারি দল। জানা গেছে, শুরুতে এ সঙ্কট উত্তরণে জাতীয় সরকার গঠনের চিন্তা করা হয়েছিল। সেখানে উভয় দলের সদস্য রাখার কথা ছিল। কিন্তু এখন সে চিন্তা থেকে সরকার সরে এসেছে। তারা এখন যেকোনোভাবেই নির্বাচন হোক না কেন, পরাজয়ের আশঙ্কা করছে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবর সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। বর্তমান সংবিধানে সরকার গঠনের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। সরকার সংবিধানের এ কাঠামোতেই সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। ইতোমধ্যেই ‘ছক’ অনুযায়ী প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। একতরফা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন থেকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দলিলপত্র আনা হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকার এখন এককভাবে নির্বাচন ভিন্ন অন্য কিছু ভাবছে না। একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে নিজেদের নিশ্চিত পরাজয়ের চিন্তা থেকে নির্বাচনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনারও চিন্তা করেছিল সরকার। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে এনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সংসদ গঠনের কথা বলা হয়েছিল। সরকারের পরামর্শদাতারা যুক্তি হিসেবে বলেছিলেন, বিদ্যমান পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৫০টি আসনও পাবে কি না সন্দেহ রয়েছে। এ জন্য নতুন ভাবনার অংশ হিসেবে-আনুপাতিক হারে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার বিবেচনায় আসন বণ্টন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। বলা হয়- এতে আওয়ামী লীগ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পেলেও তাদের আসন গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় এক শ’তে। যা তাদের মুখ রার জন্য যথেষ্ট। আরো একটি কারণে এই প্রস্তাব বিবেচনায় আনা হয়েছিলÑ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে আগামীতে যারাই মতায় আসবে তাদের পে এককভাবে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব হবে না। বর্তমানে সময় স্বল্পতার কারণে এই পরিকল্পনা থেকে সরকার সরে এসেছে। সূত্র জানিয়েছে, এককভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কঠোরতা ও প্রলুব্ধ করার নীতি নিয়ে আপাতত এগোচ্ছে সরকার। এর বাইরে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে এসব কিছুই করা হচ্ছে একক চিন্তার মাধ্যমে। সরকারের অনেক দায়িত্বশীল মন্ত্রী নির্বাচন ও আগামী পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনো ওয়াকিবহাল নন।

শেয়ার করুন