‘এ সংসদেই গ্রামীণ ব্যাংক আইন’

0
97
Print Friendly, PDF & Email

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, এ আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

সোমবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আইন করার জন্য আমার দায়িত্বে থাকা আর একটি বিষয় বাকি আছে। সেটা হলো গ্রামীণ ব্যাংক আইন। বৃহস্পতিবারই এটা কেবিনেটে তোলা হবে।”

মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে সংসদের চলতি অধিবেশনেই এ আইন পাস করা হবে কি না জানতে চাইলে মুহিত বলেন, “অফকোর্স। এ পার্লামেন্টেই পাশ হবে।”

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সামরিক শাসনামলে নেওয়া বিভিন্ন অধ্যাদেশ পরিবর্তন ও বাতিল করার কাজ শুরু করে। এরই আওতায় ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ পরিবর্তন করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আগে থেকেই বলে আসছেন, গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করায় ‘বেশি’ পরিবর্তন করা হবে না।

কি কি পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানতে চাইলে মুহিত বলেন, “আমি আগেও বলেছি বেশি চেঞ্জ টেঞ্জ নেই।

“ইট উইল কাম আন্ডার দি কন্ট্রোল অব বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) দেওয়া হবে।”

১৯৮৩ সালে সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পরের সময় থেকেই নোবেলজয়ী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক কর অব্যাহতি পেয়ে আসছে।

কর অব্যাহতির সুযোগ শেষে গ্রামীণ ব্যাংক কতোদিন কর অবকাশ পাবে জানতে চাইলে মুহিত বলেন, “কর অবকাশ একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থাকে। এটা কখনো দিই, কখনো দিই না। সেই অনুযায়ী পাবে।”

পরিবর্তনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আগে গ্রামীণ ব্যাংক পর্ষদের ৯ জন পরিচালকই এর এমডি মুহাম্মদ ইউনূস ‘ঠিক করে দিতেন’। এখন পরিচালক নিয়োগ হবে বিধিমালা (রুলস) মেনে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টম্বর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এতোদিন কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে না থাকা গ্রামীণ ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে শেয়ার বণ্টন আগের মতোই থাকবে। ২৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে সরকারের কাছে; ৭৫ শতাংশ থাকবে গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের কাছে।

এদিকে সোমবারই গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর। তবে দুপুর পর্যন্ত তা পাননি বলে জানান তিনি।

১৯৮৩ সালে একটি সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হওয়ার পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ২০১১ সালে তার এমডি পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ওই বছর মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়, তখন তার বয়স প্রায় ৭১ বছর। এরপর থেকে ওই পদটি ফাঁকা রয়েছে।

২০১০ এর ডিসেম্বরে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া বিদেশি অর্থ এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে। এরপর দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় একটি কমিশন গঠন করে সরকার। সম্প্রতি কমিশন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়, যাতে ব্যাংকের বর্তমান কাঠামো বদলে বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করা হয় বলে গণমাধমের খবর।

শেয়ার করুন