ভারতে এ কেমন বর্বরতা

0
78
Print Friendly, PDF & Email

ভারতে নারী নির্যাতন ভয়াভয় আকার ধারণ করেছে। এ নির্যাতন ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহে দেশটির ভূবনেশ্বর এলাকার জগামারায় স্ত্রীর উপর রঞ্জন পান্ডা (৪০) নামে এক ব্যক্তির নির্যাতনের ভয়াভহতা অনেক কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে।
 
জানা গেছে, মাদক সেবন করে ঘরে ঢুকেই স্ত্রীকে বেদম মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে পাষ- স্বামী তার স্ত্রীর মাথার চুল কেটে দেয়। এতেও সে ক্ষান্ত হয়নি, ধারালো ব্লেডের আঘাতে স্ত্রীর গোপন অঙ্গ রক্তাক্ত হয়।
 
স্ত্রীর আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসলেও তাকে কেউ থামাতে পারেনি। স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনে বাসার টিউব লাইট ভেঙ্গে স্ত্রীর পেটে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। স্ত্রীর রক্তাক্ত শরীর দেখে তাৎক্ষণিকভাবে সে কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং সুই-সুতা দিয়ে ধারালো ব্লেডের পোঁচে কেটে যাওয়া অংশ সিলাই করতে থাকে।
 
প্রতিবেশির কাছে খবর পেয়ে এ সময় দ্রুত ছুটে আসে তার মা ও ভাই। পরে মা ও ভাই তাকে নিয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে ছুটে যায়। ক্ষতস্থান সেলাই করার পর সে বাসায় ফিরে। তখন পর্যন্ত স্বামীর সব অত্যাচার ও নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে জসোদা। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ফেরার পর যখন তার ওপর যৌন নির্যতন চালানো হয় তখনই সে থানায় নালিশ করে এবং বিষয়টি জানাজানি হয়।
 
পান্ডার স্ত্রী জাসোদার (৩১) বলেছেন ,গত ২৩ সেপ্টেম্বর আমার স্বামী উন্মত্ত অবস্থায় ঘরে ঢুকে আমার মাথার চুল কেটে দেয়। শুধূ তাই নয় ধারালো ব্লেড দিয়ে আমার শরীরের বিশেষ অঙ্গ মারাত্মক জখম করে এবং টিউব লাইট দিয়ে আমার পেট রক্তাক্ত করে দেয়।
 
যখন আমি প্রচ- ব্যথায় চিৎকার করতে থাকি তখন সে আমার ক্ষতস্থান সেলাই করতে শুরু করে। পরে আমার মা এবং ভাই আমার বাড়িতে ছুটে এসে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
জাসোদা আরো জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সে মারাত্মক অসুস্থাবস্থার মধ্যেও জোর করে আমার উপর যৌন নির্যাতন চালায়।
 
এমন অবস্থার পর, গত শনিবার জাসোদা নিকটস্থ থানায় একটি মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে তার মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। অনেক কথাকাটাকাটির পর পুলিশ তার মামলাটি গ্রহণ করে।

শেয়ার করুন