উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

0
55
Print Friendly, PDF & Email

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে দুই মাস ধরে উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা উপস্থিত থাকছেন না। এতে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভা ডাকা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থাকলেও ১০টি ইউপির সব চেয়ারম্যান অনুপস্থিত ছিলেন। গত বুধবার চলতি মাসের মাসিক সমন্বয় কমিটির সভা ডাকা হয়। এ সভায়ও ইউপি চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।
কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, সরকারি নির্দেশনা না মেনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল ইচ্ছামতো টিআর, কাবিখা, এডিপিসহ সরকারি বরাদ্দ বণ্টন করে দেন। তিনি নিজের পছন্দের লোক দিয়ে প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করে সরকারি বরাদ্দ লুটপাট করছেন। এসবের প্রতিবাদ করলে ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তিনি। এখন তিনি উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
চামরাদনী ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার অভিযোগ করেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে নানাভাবে হেনস্তা করেন তিনি।
ধরমপাশা উপজেলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করেন না। আমাদের কথার কোনো গুরুত্ব দেন না।’ সভা বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা একধরনের মৌন প্রতিবাদ। সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টন ও অনিয়ম বন্ধে তাঁর (আবদুল আউয়াল) কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেলেই আমরা সভায় যোগ দেব, না পেলে দেব না।’
ইউএনও মো. খালেদুর রহমান জানান, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় ইউপি চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত ছিলেন। তাই সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।
আবদুল আউয়াল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করিনি। কাজ করলে কিছু ভুলভ্রান্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক। ইউপি চেয়ারম্যানরা এলজিএসপি, অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করে থাকেন। আমি এসবের প্রতিবাদ করি বলেই তাঁরা এমন অভিযোগ করছেন। ইউপি চেয়ারম্যানরা সমন্বয় কমিটির সভায় অনুপস্থিত থাকায় বিধি মোতাবেক তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন