আগারগাঁওয়ে জব্দ করা গাড়ি রেখে রাস্তা দখল

0
59
Print Friendly, PDF & Email

রাস্তাটির এক দিকে ফাঁকা, আরেক দিকে যত্রতত্র গাড়ি রাখা। হঠাৎ দেখে মনে হতে পারে, যানজটের কবলে পড়েছে রাস্তাটি! কিন্তু স্থির দৃষ্টি দিলেই বোঝা যাবে, যানজট সহজে কাটবে না। কারণ এই যানজট স্থায়ী। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে রাস্তাটি জব্দ করা গাড়ি রেখে দখল করে রেখেছে ট্রাফিক পুলিশ।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এভাবে জব্দ করা গাড়ি রেখে রাস্তাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। রাস্তাটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে থাকার পরও এটি দখলমুক্ত করতে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, রোকেয়া সরণির সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ও পরিসংখ্যান বিভাগের সামনে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পুরো সড়কটি একপাশ দখল করে জব্দ করা গাড়ি রাখা হয়েছে। গাড়িগুলো এভাবে রাস্তায় রাখায় চাকা দেবে কোথাও কোথাও রাস্তার বিটুমিন উঠে গেছে। কোথাও ছড়িয়ে আছে ভাঙা গাড়ির কাচ। উন্মুক্ত স্থানে রাখায় দিনে দিনে গাড়িগুলো নষ্ট হচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, ট্রাফিক উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা গাড়ি এনে এ রাস্তায় রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম আলী জানান, সন্ধ্যা হলেই স্থানীয়রা এ পথ দিয়ে যেতে চায় না। জব্দ করা গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে ছিনতাইকারীরা
লুকিয়ে থাকে। এখানে জুয়ার আড্ডা বসে এবং নানা অসামাজিক কার্যকলাপ হয়।
এদিকে রাস্তাটির তত্ত্বাবধায়ক গণপূর্ত অধিদপ্তর হওয়ার পরও তারা রাস্তাটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়নি। উল্টো দায়িত্ব অস্বীকার করে রাস্তাটি মেরামতের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে চাপ দিচ্ছে। নথি থেকে দেখা গেছে, সম্প্রতি এ রাস্তায় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের একটি ভবনের উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর আসা উপলক্ষে গণপূর্ত বিভাগ উত্তর সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেয়। পাল্টা চিঠিতে সিটি করপোরেশন জানায়, এটি তাদের রাস্তা না হওয়ায় এর দায়িত্ব তারা নিতে পারে না।
উত্তর সিটি করপোরেশন আগারগাঁও অঞ্চলের (অঞ্চল-৫) দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন বলেন, রাস্তাটি গণপূর্ত বিভা-গের। যে রাস্তা সিটি করপোরেশনের নয়, তার তত্ত্বাবধান করাও সিটি করপোরেশনের কাজ নয়।
জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কবির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বার্ষিক তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় অধিদপ্তরের পক্ষে রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি সম্ভব হয় না। গাড়ি সরানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ পুলিশের ওপরই নির্ভর করে। তিনি বলেন, এ রাস্তাসহ অধিদপ্তরের রাস্তাগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনকে লিখিতভাবে বলা হয়েছে। তারা কিছু করেছে, কিছু করেনি।
ট্রাফিক পশ্চিমের উপকমিশনার একরামুল হাবিব রাস্তা দখল করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই রাস্তায় সাময়িকভাবে জব্দ করা গাড়ি রাখা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ জব্দ করা গাড়ি সংরক্ষণের জন্য আলাদা জায়গা করছে, সেখানে গাড়িগুলো নিয়ে যাওয়া হবে।’
দুই বছরেরও বেশি সময় রাস্তা বন্ধ রাখাকে সাময়িক বলা যায় কি? এ প্রশ্ন করা হলে একরামুল হাবিব ‘পরে ফোন দেন’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

শেয়ার করুন