দেশের স্বার্থে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত

0
99
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপি নির্বাচন চাইলে নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি সম্পর্কে সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে। জাতির স্বার্থে, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমি যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে গত শনিবার বিকেলে (বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর) জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, সাংবিধানিক উপায়েই নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন। সংসদে আসুন, পরিষ্কার করে বলুন, কী চান।’ সামরিক শাসন, জরুরি অবস্থা ও সেনা-সমর্থিত সরকারের নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের অবৈধ সংস্কৃতি বন্ধ করতে তাঁর সরকার সংবিধান সংশোধন করেছে।জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রথম আলোর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিবিদ হয়ে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা তো আমি বলতে পারি না। তবে আইন-আদালতের মাধ্যমেই জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্বাচন এবং ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে। এর কোনো ব্যতিক্রম বা বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘পরপর ১৩টি গ্রেনেড ছুড়ে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। ১৫ আগস্ট যে দিনটিতে আমি আমার মা-বাবার স্বজনদের হারিয়েছি, সে দিনটিতে জন্মদিন পালন করে বেগম খালেদা জিয়া উল্লাস করেন।’

সুশীল সমাজের নামে কিছু লোক দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসব সুশীলকে বুঝতে হবে, আওয়ামী লীগকে খাটো করলে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষকেরা ক্ষমতায় আসবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ হয়ে পড়বে। আইনের আপন গতিতেই দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ড কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। রাজনৈতিক কারণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবর্ধনা: সংবাদ সম্মেলনের পর হোটেল হিলটনে প্রধানমন্ত্রীকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মঈন উদ্দীন খান বাদল প্রমুখ।

সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বোয়িং কোম্পানি উড়োজাহাজ সরবরাহ করলেই আগামী বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু হবে।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, গত ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতের হাজার হাজার কর্মী নিহত হয়েছে বলে বিএনপি মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে। তারা হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জোনস শহরে গণ-আত্মহত্যার ছবি দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। বিএনপি-জামায়াত আবার ক্ষমতায় এলে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের তৎপরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা পবিত্র কোরআনের হাজার হাজার কপি পুড়িয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পবিত্রতা ধ্বংস করেছে।

বিক্ষোভ: প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার সময় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। জামায়াত-সমর্থক নারী কর্মীরা তাঁদের শিশুসন্তান নিয়ে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন। দুপুর থেকে চলা এ বিক্ষোভ রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।

শেয়ার করুন