সরকার একা নির্বাচন করতে চায়

0
48
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, সরকার একা নির্বাচন করতে চায়। কাউকে সঙ্গে নিতে চায় না। কেননা, পরাজয় হবে জেনে তারা নির্বাচনকে ভয় পায়।গতকাল রোববার বিকেলে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তিনি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ের আন্দোলন ও গণতন্ত্র রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, বেসামরিক প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।বিরোধীদলীয় নেতা আবারও বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট তাতে অংশ নেবে না এবং সেই নির্বাচন প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেখব। এখনো সময় আছে, সরকারের উচিত সংসদে বিল এনে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।’এ ছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। তিনি ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগও আনেন। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ১৮ দল এই জনসভার আয়োজন করে। একই দাবিতে ইতিমধ্যে নরসিংদী, রংপুর ও রাজশাহীতে জনসভা করেছে তারা। এরপর ৫ অক্টোবর সিলেটে জনসভা হবে। আর ঈদের পর চট্টগ্রাম ও ঢাকায় জনসভা হওয়ার কথা রয়েছে।

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়: গতকালের জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই, কিন্তু রামপালের মতো জায়গায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দেওয়া যাবে না। এটা বন্ধ করতে হবে, অন্য জায়গায় করতে হবে। এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। পশুপাখি, মাছ, বাঘ কিছুই থাকবে না। খুলনা অঞ্চলের মানুষ বসবাস করতে পারবে না। পানি নষ্ট হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি একটা বানিয়েছে। এরা লংমার্চ করে এসেছে। আমি তাদের বলব, আমরা আপনাদের পাশে আছি। যা সহযোগিতা লাগবে বলবেন। দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে সবাই মিলে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’

অবশ্য এই জাতীয় কমিটি খালেদা জিয়ার সরকারের সময় যখন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল, তখন (২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট) আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা করেছিল। তাতে তিনজন নিহত হন।

প্রতিশ্রুতি: বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর ৫০ মিনিটের বক্তব্যে বিএনপি সরকারের সময়ের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গেলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং খুলনাকে শিল্পনগরের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে নতুন শিল্প স্থাপন ও বন্ধ শিল্প কলকারখানা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার সরকার ও রাজনীতি করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অভিযোগ ও আহ্বান: বিএনপির চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় লোকজন ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুট করেছে। দেশ এখন ডাকাতের কবলে। এখন আর মানুষ ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। ঘরে ঢুকেই সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করছে। সরকার পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করতে চায়। এরা যত দিন থাকবে, তত দিন কেবল ক্ষতিই হবে। তিনি গ্রামীণ ব্যাংক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।

পথে পথে তোরণ: খুলনায় খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে খুলনা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে শত শত তোরণ নির্মাণ করা হয়। ছিল অসংখ্য ব্যানার-ফেস্টুন। তবে সিলেটের মতো খুলনার বিলবোর্ডগুলো বিএনপি দখল করেনি।

বিকেল চারটায় জনসভা মঞ্চে খালেদা জিয়ার ওঠার কথা থাকলেও গতকাল ভোর থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সার্কিট হাউস মাঠে আসতে থাকেন ১৮-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের কর্মীরা সকাল আটটার মধ্যে মঞ্চের সামনের জায়গায় অবস্থান নেন। সকাল নয়টার মধ্যে সার্কিট হাউস মাঠের এক-তৃতীয়াংশ ভরে যায়। দুপুরের মধ্যে লোকসমাগম মাঠ ছাড়িয়ে যায়। তবে দুপুরের পর বৃষ্টি শুরু হলে মাঠে মানুষের ভিড় কমতে থাকে। খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই অনেকে মাঠ ত্যাগ করেন।

খালেদা জিয়া শনিবার বিকেলে ঢাকা থেকে রওনা হন। যশোরে রাত যাপন করেন। গতকাল দুপুরে যশোর থেকে খুলনায় যান। জনসভা শেষে তিনি আবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মো. ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামীসহ ১৮-দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

সাঈদীপুত্রের হুমকি: খুলনা অফিস জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী গতকালের সমাবেশে বলেন, ‘সরকার ষড়যন্ত্র করে শতাব্দীর নিকৃষ্টতম অভিযোগে আমার পিতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে সাড়ে তিন বছর ধরে কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। শুধু বন্দী করে রেখেই ক্ষান্ত হয়নি, তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় পর্যন্ত দিয়েছে।’ তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘সরকার ফাঁসির রায় কার্যকর করার মতো দুঃসাহস দেখালে এই বাংলাদেশে আগুন জ্বলবে।’ সাঈদীর ছবি লাগানো ব্যানার ও ফেস্টুন নেড়ে এ বক্তব্যে সমর্থন জানান জামায়াত-শিবিরের উপস্থিত নেতা-কর্মীরা।

ভালো লোক নিয়ে আসব: প্রথম আলোর যাশোর অফিস জানায়, গতকাল সকালে যশোর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ওই জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘এবার নতুন আঙ্গিকে সরকার গঠন করা হবে। আমরা ঐক্যের রাজনীতি করব। জাতিকে বিভক্ত রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। দেশ গঠনের জন্য ভালো ভালো লোককে নিয়ে আসব।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় যাবে। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কী পেলাম সেই চিন্তা না করে, কী দিলাম সেই চিন্তা

শেয়ার করুন