ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ শুরুতেই হোঁচট খেল সিটি করপোরেশন

0
73
Print Friendly, PDF & Email

নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে এ কার্যক্রম শুরু করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই সময় নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি চিহ্নিত ভবন খালি করার জন্য সংশ্লিষ্ট মালিক-কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। তবে সপ্তাহ দুয়েক ধরে এ কার্যক্রম বন্ধ আছে। চউকের (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) তালিকা অনুযায়ী নগরে মোট ৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে।
জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে গত দুই সপ্তাহ অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে শিগগির এ কার্যক্রম আবার শুরু হবে।
সূত্র জানায়, ভ্রাম্যমাণ আদালত চউক-ঘোষিত ৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের লক্ষ্যে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু করেন। ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ অভিযান চলে। এ সময়ে আদালত ছয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করার জন্য সংশ্লিষ্ট মালিককে নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, অভিযানের প্রথম দিন নগরের সদরঘাটের পি কে সেন সড়কের বড়ুয়া ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর কে সি দে সড়ক এলাকার ঐতিহ্যবাহী সিনেমা প্যালেসসহ চারটি ভবন এবং চকবাজারের পেশকার ভবন এক সপ্তাহের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে পি কে সেন সড়কের ছয়তলা বড়ুয়া ভবনের তিনতলার ওপরের অংশ অপসারণ শুরু হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরে তা বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মালিকদের অনুরোধ জানায় সিটি করপোরেশন।
চউক সূত্রে জানা গেছে, নগরে মোট ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে ৬৪টি। সংস্থাটি ২০০৬ সালে এ তালিকা প্রণয়ন করে। এর আগে তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছিল ৫৭টি।
সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সালের ইমারত নিয়ন্ত্রণ উপধারা ১৭.১ অনুসারে নগরে জরাজীর্ণ ভবন অপসারণের দায়িত্ব করপোরেশনের। এই আইনের আলোকে এসব ভবন অপসারণের জন্য ২০০৭ সালে চউক তালিকা দেয় সিটি করপোরেশনকে।
চউকের তালিকায় থাকা অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বয়স ৫০ থেকে ১০০ বছর। তালিকায় রয়েছে আবাসিক-কাম বাণিজ্যিক ভবন ১৫টি, সিনেমা হল একটি এবং বাণিজ্যিক ভবন সাতটি। অন্যগুলো আবাসিক ভবন। এসব ভবনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বসবাস করে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৬ সালে তালিকা তৈরি করা হলেও দীর্ঘদিন এসব ভবন অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর আবারও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের বিষয়টি নজরে আসে। ওই সময় করপোরেশন একটি কমিটি গঠন করে।
চউকের উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সরোয়ার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে তালিকা সিটি করপোরেশনকে দিয়েছি। এসব ভবন অপসারণের দায়িত্ব করপোরেশনের।’
সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ কমিটির সদস্যসচিব আহমদুল হক বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিজ উদ্যোগে অপসারণ করতে ভবন মালিকদের একাধিকবার নোটিশ দিয়েছি। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ভবনমালিক আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে দেরি হচ্ছে।’ বাকি ভবনগুলো অপসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে আহমুদুল হক জানান।

শেয়ার করুন