ওষুধ যখন মাদক

0
242
Print Friendly, PDF & Email

মানুষের জীবন বাঁচাতে যেসব ওষুধ সেবন করা হয়, সেসব ওষুধ দিয়েই এখন নেশা করছে মাদকাসক্তরা। সিলেটের বিভিন্ন মাদক স্পটগুলোতে মাদকসেবীরা মাদকের বদলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করছে। মাদকসেবীদের কাছ থেকে অধিক মুনাফা লাভের জন্য তাদেরকে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে যাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীরা।
 
ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম’র অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
 
কয়েকজন মাদকসেবীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কিছু ওষুধকে তারা এখন নেশার সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করে।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকসেবীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যদি ওষুধ দিয়ে নেশা করার হার বাড়ে তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই পথ বন্ধ করতে অসাধু ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না কিছু অসাধু ফার্মেসী ব্যবসায়ী। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই মাদকসেবীদের কাছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে চড়া দামে ওষুধ বিক্রি করেন এসব অসাধূ ব্যবসায়ীরা।
 
জানা গেছে, মাদকসেবীরা নেশার করার জন্য ফেন্সিডিলের বদলে প্যাথিড্রিন, তুসকা সিরাপ, রিবট্টিল, অফকফ, অডোকফ, লুপিকফ, ফেনারগান ইত্যাদি ব্যবহার করছে।
 
এছাড়া ডি-প্রোটিন, এক্স-প্রোটিন, প্যানডিল, হিসটাসিন, ড্রাইডিল ফ্লোরাঝেপাম, সেডিল, সোবানাল, টুইনাল, কেনোবার, গার্ডিনাল, এমিটাল, সানড্রেক, ফ্লোরাগাম, ট্রায়জোনাল, লোবাজিপাম, এটিবান, ভ্যালিয়াম, রিলাক্রেনসহ আরও অনেক ওষুধও নেশাদ্রব্য হিসেবে ব্যবহার করছে মাদকাসক্তরা।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নগরী ও আশপাশ এলাকার ৪০/৫০টি স্পটে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি এসব ওষুধ দিয়ে মাদকের চাহিদা পুরণ করছে মাদকাসক্তরা। দিনে দিনে মাদক দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে তারা এ পথ বেছে নিয়েছেন।
 
ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা এসব ওষুধ ক্রয় করেন। বিনিময়ে বিক্রেতারা বোনাসসহ অধিক মূল্য পান। ফেন্সিডিলের অধিক দাম ও অনেক সময় টাকা দিয়েও না পাওয়ায় মাদকসেবীরা নেশা চালিযে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কফ সিরাপ দিয়ে।
 
কম টাকায় নেশা হওয়ায সিরাপগুলো ও বিভিন্ন রোগের ট্যাবলেটজাত ঔষধের চাহিদা তাদের কাছে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া কফ সিরাপের সাথে ট্যাবলেট জাতীয় ওষুধ মেশানোর পর নেশা করলে আরও বেশি নেশা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য আটক হওয়ার কারণে মাদকসেবীরা নেশার জন্য এ পথ বেছে নিয়েছে।
 
মাদকসেবীরা নেশা করার জন্য নগরীর চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, মেডিকেল রোড, আম্বরখানা, দরগাহগেইট, মীরের ময়দান, উপশহর, নয়া সড়ক, সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, শাহী ঈদগাহ, সুবিদবাজার, দক্ষিণ সুরমার কদমতলী, বাবনা রোডসহ বিভিন্ন এলাকার অসাধু ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে নেশা করে মাদকসেবীরা।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক মাদকসেবী জানায়, ‘আমরা যাওয়া মাত্রই ওষুধ ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই সেগুলো রেডি করে রাখেন। ফার্মেসীর কাছে গিয়ে ফোন করলে তারা প্যাকেট হাতে দিয়ে টাকা নিয়ে ফার্মেসীতে চলে যায়।’
 
জীবন রক্ষার ওষুধ দিয়ে নেশা করা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি হওয়ার কারণে গভীর উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
 
এ ব্যাপারে কথা বলতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন