জাতীয় নির্বাচনে ‘না’ ভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব

0
167
Print Friendly, PDF & Email

জাতীয় নির্বাচনে ‘না’ ভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সুজন। আজ শনিবার ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে এ প্রস্তাব দেয় সুজবের বক্তারা। বক্তরা বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিওর খসড়া সংশোধনীতে নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর ফলে আগামী নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব বাড়বে। সংশোধনীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, প্রতিবেশী দেশ ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যানের অধিকারকে স্বীকৃতী দিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত গতকাল শুক্রবার এই রায় দেয়। আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিওর খসড়া সংশোধনীতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু ধারা সংশোধনের পাশাপাশি প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা ১৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ করা হয়েছে।

কিন্তু সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন মনে করে, এর ফলে নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব বাড়বে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে নির্বাচনে টাকার প্রভাব বন্ধ করার জন্য জাতি হিসেবে আমাদেরকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতেই হবে। আমাদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর পরিবর্তে কমানো উচিত। এই ব্যয় কমানোর জন্য নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং আমাদের সবারই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়া দরকার।

সংশোধনীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জাতীয় নির্বাচনে ‘না’ ভোটের বিধান রাখাসহ বেশকিছু সুপারিশের প্রস্তাব দেয় সুজন। সুষ্ঠুু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন যেটা আছে তাতে বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন যা আমরা অতীতেও বলেছি, গত নির্বাচন কমিশনেও সুপারিশ করা হয়েছে।

সুজনের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, কমিশন নিজেদের ক্ষমতায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেনি। আর মন্ত্রণালয়েও স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে এই সংশোধনীর মাধ্যমে কোনোভাবেই নির্বাচন কমশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে না।

শেয়ার করুন