২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণায় জাতিসংঘের সমর্থন কামনা

0
74
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে চলতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে ৬৮তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি এ্যাম্বাসেডর জোহান ডব্লিউ এ্যাস-এর সমর্থন কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদফতরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাধারণ পরিষদের সভাপতির সাথে এক বৈঠকে তাকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব বিজন লাল দেব এ কথা বলেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্ব শান্তিতে বাংলাদেশ যেনো আরো অধিক দায়িত্ব পালন করতে পারে এ জন্য তিনি এর প্রশাসনিক কাঠামোয় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সমর্থন কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সর্বোচ্চ অবদান সত্ত্বেও এর প্রশাসনিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব খুবই কম। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণে সমর্থনের জন্য এ্যাম্বাসেডর জোহানকে ধন্যবাদ জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন মডেল’, ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার’ ও ‘শান্তির সংস্কৃতি’র মতো প্রস্তাবগুলো গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি-এর সঙ্গে এক বৈঠকে অন্যান্য প্রকল্পের সাথে বাংলাদেশে কাতারের ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান। জাতিসংঘে কাতারের স্থায়ী মিশনে দেশটির আমিরের সঙ্গে এ বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দু’দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয়।
কাতারের আমির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন যে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত করতে তাঁর দেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব এ কথা বলেন।

পরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ঈ জাতিসংঘ সদর দফতরের সম্মেলন ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। চীনের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, তার দেশ দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওয়াং ঈ চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, একইভাবে শেখ হাসিনা এ সম্পর্ক জোরদারে অবদান রাখছেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আরো অবহিত করেন যে, এ অঞ্চলে চীন তার অর্থনৈতিক করিডোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে আগামী মাসে ভারত, মায়ানমার ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকের আয়োজন করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব সময় বিশেষ করে বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীনসহ প্রতিবেশী সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ করে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও চীন উভয়ে এ অঞ্চলের জনগণের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা হোসেন পুতুল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন বৈঠকগুলোতে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন