জিএসপি স্থগিত শ্রমিকস্বার্থ বিরোধী: প্রধানমন্ত্রী

0
61
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশি পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বোঝানোর জন্য দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর হোটেলে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে শেখ হাসিনার গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন,যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি স্থগিত করায় শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিতের বদলে তাদের স্বার্থ আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাজরীণ ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১২ শ’র বেশি শ্রমিকের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও মজুরির বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর কয়েকটি শ্রমিক সংস্থার দাবির মুখে গত ৩০ জুন বাংলাদেশি পণ্যে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্সের নামে জিএসপি সুবিধা স্থগিত সমর্থনযোগ্য নয়। কিছু দুর্ঘটনার কারণে জিএসপি সুবিধা স্থগিতও সমর্থনযোগ্য নয়। শিল্পক্ষেত্রে এ ধরনের দুর্ঘটনা উন্নত বিশ্বেও ঘটে থাকে। বর্তমান সরকারের আমলে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং রানা প্লাজা ধসে নিহতদের পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা  বলেন, জিএসপি সুবিধা স্থগিতের সিদ্ধান্ত শিগগিরই প্রত্যাহার করা হবে বলে তারা আশা করছেন।

তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও সরকারি পর্যায়ে বৈঠক করার বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন বলে উপদেষ্টা জানান। ইকবাল সোবহান বলেন,গত বছর মে মাসে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব আলোচনার ধারবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের এই বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব বিজন লাল দেব ও মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) সাদিয়া মুনা তাসনিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি (এটিটি) এবং বিশেষ ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র– সিসিডব্লিউ বিষয়ক ওয়ার অব কনভেনশনের প্রটোকলে স্বাক্ষর করেন।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার  প্রথম দেশ হিসাবে মারণাস্ত্র্রের ব্যবসা ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের একটি চুক্তি ও একটি প্রটোকলে সই করেছে বাংলাদেশ। পরে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে মানবজাতির একমাত্র আবাসস্থল পৃথিবীকে রক্ষায় এবং আগামী প্রজন্মের জন্য পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। প্রচলিত অস্ত্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ২০০৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তির (এটিটি) প্রস্তাব গৃহীত হয়। বাংলাদেশের আগে বিশ্বের ৮২টি দেশ অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে। জাতিসংঘ আন্ডার সেক্রেটারি মাইগুয়েল সেরপা সোয়ের্স চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। দক্ষিণ এশিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত একটি অঞ্চল হিসাবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মানব জাতির একমাত্র বসবাসের স্থান পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জাতিসংঘের চুক্তি ও প্রোটোকলে সই করার জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন