সংবিধান মানুষের জন্য, মানুষ সংবিধানের জন্য নয়

0
46
Print Friendly, PDF & Email

সংবিধান মানুষের জন্য, মানুষ সংবিধানের জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান।

তিনি বলেন, বলা হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা হবে। কিন্তু সংবিধান সংশোধন করে বিভিন্ন ধারার তত্ত্বাবধায়ক সরকারও গঠন করা যেতে পারে। 

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুসংহতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে  এসব কথা বলেন ড. আকবর আলী খান। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘দ্য ঢাকা ফোরাম’ নামে নতুন একটি সংগঠন এ সেমিনারের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন, নির্বাচন আমাদের একমাত্র সমস্যা। কিন্তু নির্বাচনই আমাদের একমাত্র সমস্যা নয়। এটি সমস্যার শুরু মাত্র। আমাদের সমস্যা রয়েছে রাজনীতিতে, গণতন্ত্রে। প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ধ্বংস হচ্ছে, এগুলো রক্ষা করতে হবে। দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই। সমস্যা হচ্ছে আমরা চটজলদি সমাধান চাই।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক সমাধান দেখছেন না সাবেক এ সচিব। তিনি বলেন, সমাধান চাইলে আরও পরিশ্রম করতে হবে। ভালো লোক রাজনীতিতে আসতে হবে। আমরা যে পথে চলছি, তাতে আশু সমাধানের পথ দেখছি না। আইন-কানুনের কারণেও সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে, সংবিধান মানুষের জন্য, মানুষ সংবিধানের জন্য নয়।

টকশো’ নিয়ে সরকারের সমালোচনা সম্পর্কে তিনি বলেন,  রাজনীতিবিদরা নাটক করে বলেন বলেই টকশো’ জনপ্রিয়। তারা যদি নাটক না করতেন, তাহলে মানুষ টকশো’ দেখতেন ‍না।

তিনি আরও বলেন, বলা হয় টকশো’তে আজেবাজে কথা বলা হচ্ছে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। কিন্তু টকশো’ সবচেয়ে জনপ্রিয় এখন। টকশো’ বন্ধ হলে মানুষ বিবিসি, ভয়েস আমেরিকা শুনবেন, বিটিভি দেখবে না। এতে করে গুজব ছড়াবে রাস্তায় রাস্তায়। মনে রাখতে হবে, কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো যায় না।

অনুষ্ঠানে ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধান নিয়ে আদালতের নাক গলানো উচিত নয়। এ বিষয়টি আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
 
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে সম্ভবত তিনটি সংশোধনীর বিষয়টি আদালতে রিট হয়েছিল। কিন্তু আদালত তিনবারই বলেছেন, এটা রাজনৈতিক বিষয়। সেখানেই সমাধান হবে, এটা আদালতের বিষয় নয়।

তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে, আরেকটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচন যদি হয়, তাহলে সেটি খারাপ নির্বাচনের সর্বশেষ নজির হবে। এরপর আর খারাপ নির্বাচন হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ ‍উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। কয়েকজন সাবেক রাষ্ট্রদূত, সাবেক অর্থসচিবসহ আরও অনেকে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন