যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিশ্বের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

0
63
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ব্যাপক গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারীদের বিচারে সমর্থন দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য এই বিচার প্রয়োজন। এই বিচারের সফল সমাপ্তি যুদ্ধের ক্ষত মুছে দিয়ে বাংলাদেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে চারটায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে ভাষণদানকালে এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য তাঁর সরকার ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। এই বিচারকাজ পরিচালনায় সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা প্রণয়ন জাতিসংঘের প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য একটি কঠিন কাজ। একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল’ এবং ‘দক্ষিণ এশিয়ার মান বাহক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড, গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড এবং এফএও ফুড অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ লাভ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় আইন ও নীতি প্রণয়ন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের অত্যাসন্ন চ্যালেঞ্জের প্রতি বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেক অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল’-এ পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকারমূলক কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান।

২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করায় ইউনেসকোকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী একইভাবে জাতিসংঘের প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি অর্জন এবং ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো পূরণে উন্নয়ন সহযোগীদের অফিশিয়াল উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে তাদের মোট জাতীয় উৎপাদনের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে (এলডিসি) ওডিএ হিসেবে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি এলডিসিগুলোর পণ্য অন্যান্য দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্তভাবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্রেটন উডস্ ইনস্টিটিউশনস ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে মত প্রকাশে সমান অধিকার এবং জিএটিএস অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অবাধ যাতায়াতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

জিএসপি স্থগিত শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করবে: নিউইয়র্ক থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি ইব্রাহীম চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অগ্রাধিকার মূলক বাজার-সুবিধা (জিএসপি) স্থগিতের কারণে শ্রমিকদের কল্যাণের পরিবর্তে তাঁদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করবে। জিএসপি প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বোঝাতে তিনি দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে তাঁর হোটেল স্যুইটে যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপের এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা এবং কমপ্ল্যায়েন্সের নামে জিএসপি-সুবিধা স্থগিত সমর্থনযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র অন্যায়ভাবে জিএসপি-সুবিধা বাতিল করেছে। কিছু দুর্ঘটনার কারণে জিএসপি-সুবিধা স্থগিত সমর্থনযোগ্য নয়। শিল্পক্ষেত্রে এ ধরনের দুর্ঘটনা বিশ্বের অন্যান্য স্থানে এমনকি উন্নত বিশ্বেও অনবরত ঘটে থাকে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল জিএসপি-সুবিধা পুনর্বহালের জন্য তাদের অবস্থান থেকে প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানায়। তাঁরা বলেন, তাঁরা জিএসপি সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নদী খনন খাতে তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে।

বিএনপির বিক্ষোভ এবং আ.লীগের শান্তি সমাবেশের প্রস্তুতি: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি নেয় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগও পাল্টা শান্তি সমাবেশের প্রস্তুতি নেয়।

জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভ: কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের সামনে জামায়াত-শিবিরের লোকজন বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জামায়াতের নেতাদের মুক্তি দাবি করা হয়। যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রহসন করা হচ্ছে বলে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে স্লোগান দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন