জুলাইয়ে পণ্য আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮%

0
161
Print Friendly, PDF & Email

চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে, অর্থাৎ জুলাই মাসে পণ্য আমদানি ব্যয় প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, জুলাই মাসে পণ্য আমদানি বাবদ ব্যয় করতে হয়েছে ৩১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ২৮৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এর ফলে টানা পাঁচ মাস পরে পণ্য আমদানির মাসিক ব্যয় ৩০০ কোটি ডলার অতিক্রম করল। এর আগে চলতি পঞ্জিকা বছরের জানুয়ারি মাসে সর্বশেষ আমদানি ব্যয় ৩০০ কোটি ডলারের ওপরে ছিল। পরের মাসগুলোতে তা আর ৩০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেনি।
আমদানি ব্যয়ের এই হিসাবটি জুলাই মাসের লেনদেনের ভারসাম্য সারণি থেকে পাওয়া। আর এটি এফওবি হিসাব। সিঅ্যান্ডএফ হিসাবে জুলাই মাসে আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
সাধারণত সিঅ্যান্ডএফ হিসাব থেকে জাহাজে বহন ও বিমা খরচ বাদ দিয়ে আমদানির এফওবি ব্যয় হিসাব করা হয়, যা কিনা লেনদেনের ভারসাম্য সারণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে ক্ষেত্রে এফওবিভিত্তিক আমদানি ব্যয় সিঅ্যান্ডএফভিত্তিক ব্যয় থেকে কিছুটা কম হয়। তবে এ বছরের জুলাই মাসে উল্টো চিত্র দেখাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান।
প্রতিবেশী ভারতের বিহিত মুদ্রা রুপির বড় ধরনের দরপতন ভারত থেকে সস্তায় বেশি পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি করেছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে এটা অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আবার এই মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দর সামান্য বেড়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে ভোগ্যপণ্য ও কাঁচামালের চাহিদাও কিছুটা বেড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, যা আমদানি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, এ বছর জুলাই মাসে পণ্য-বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর গত বছর জুলাই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। জুলাই মাসে আমদানির তুলনায় পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি থাকায় এমনটি ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয়।
আবার জুলাই মাসে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৭৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। প্রবাসী-আয়ের উচ্চপ্রবাহ এবং বাণিজ্য ঘাটতি নিম্নমুখী থাকার কারণেই চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্তাবস্থা বজায় রয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

শেয়ার করুন