ভারত থেকে বিদ্যুৎ আসবে শুক্রবার

0
30
Print Friendly, PDF & Email

ভারতের সরকারি খাত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হচ্ছে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ মেগাওয়াট করে আমদানি করা বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আমদানির পরিমাণ বাড়বে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে প্রায় পাঁচ টাকা।

আগামী ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা গ্রিড উপকেন্দ্রে গিয়ে দিল্লিতে অবস্থানরত ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ভিডিও সম্মেলন করে বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ২৫ বছরের জন্য এই বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি হয়েছে।

জানতে চাইলে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী আলমগীর হোসেন বলেন, আগামী ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের দিন ১৫০ থেকে ১৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিমাণ বেড়ে অক্টোবর মাসের মধ্যে ২৫০ মেগাওয়াট এবং নভেম্বর মাসের মধ্যে ভারতের বেসরকারি খাত থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট (মোট ৫০০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ আমদানি হবে।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, বেসরকারি খাতের ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা হবে ভারতের পাওয়ার ট্রেডিং কোম্পানির কাছ থেকে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধমে কেনা এই বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ছয় টাকা ৩৪ পয়সা। সরকারি-বেসরকারি খাত মিলে আমদানি করা ৫০০ মেগাওয়াটের প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে গড়ে ছয় টাকার কম। অবশ্য সরকারি খাত থেকে কেনা ২৫০ মেগাওয়াটের দাম নির্ধারণ করবে ভারতে রেগুলেটরি কমিশন।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ছয় টাকা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পিজিসিবি বিদ্যুৎ আমদানির সমন্বয়কারী। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও পিজিসিবি সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ আমদানির জন্য গত ৩০ আগস্ট থেকে দুই দেশের ভূখণ্ডে নতুন তৈরি প্রায় ৯৮ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন (ভারতে ৭৮ ও বাংলাদেশ অংশে ২৭ কিলোমিটার), ভারতের বহরমপুরে স্থাপিত সুইচিং স্টেশন ও বাংলাদেশের ভেড়ামারায় তৈরি গ্রিড উপকেন্দ্রের সব যন্ত্রাপতি পরীক্ষার কাজ চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, এখন সমগ্র অবকাঠামো বিদ্যুৎ আমদানির জন্য প্রস্তুত। তবে একবারে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা কারিগরি দিক দিয়ে যৌক্তিক কিংবা নিরাপদ নয়। সব ক্ষেত্রেই নতুন লাইন ও অবকাঠামোতে পর্যায়ক্রমে সঞ্চালনের পরিমাণ বাড়াতে হয়।

২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এরপর স্থান নির্বাচনসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২০১২ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি টাওয়ার তৈরির জায়গা পেতে দেরি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানায়, এই বিদ্যুৎ আমদানির মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সার্ক বিদ্যুৎ গ্রিড চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হলো।

শেয়ার করুন