না’গঞ্জ আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে আ’লীগ প্যানেলের ভরাডুরির নেপথ্যে

0
64
Print Friendly, PDF & Email

এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আলোচিত মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যাকান্ডের প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন সাধারন আইনজীবীদের অনেকে। আর এ কারনেই এডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু বিএনপির দু’জন প্রার্থী থাকার পরেও নির্বাচিত হতে পারলেন না। শূধু তাই নয়, নির্বাচিত হওয়াতো দুরের কথা বরং দুইবারের এই সাবেক সভাপতি এবার সš§ানজনক ভোটও পাননি। এই নির্বাচনে দীপু মাত্র ২৪৩ ভোট পেয়েছেন। তার চেয়ে ১২২ ভোট বেশি পেয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জয়ী হয়েছেন। সাখাওয়াত পেয়েছেন ৩৬৫ ভোট। আর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট বারী ভূইয়া পেয়েছেন ২৩৪ ভোট। তাই বিএনপির দুইজন প্রার্থী থাকার পরেও শামীম ওসমান ঘনিষ্ট সহযোগি আ’লীগ নেতা দীপুর এই শোচনীয় পরাজয়কে অনাকাংক্ষিত বলেই মনে করছেন অধিকাংশ আইনজীবী।
এই নির্বাাচনের পর সাধারণ আইনজীবীরা বলেছেন, শামীম ওসমানের একান্ত সহচর হওয়ার কারনেই দীপু এভাবে হেরেছে। তাদের মতে আনিসুর রহমান দীপুকে যদি ভোট দিয়ে বিজয়ী করা হত তাহলে ত্বকী হত্যাকান্ডের দায়ে অভিযুক্ত শামীম ওসমান এবং তার পরিবারের হাতকেই শক্তিশালী করা হত। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ওসমান পরিবারের অন্যান্য অপকর্মের দায়ভারও এই নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে শামীম ওসমান কর্তৃক পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজীর যে ভয়াবহ চিত্র বেড়িয়ে এসেছে তাও সাধারণ আইনজীবীরা আমলে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি বন্ধন পরিবহন এবং নসিব পরিবহনের মালিকরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ করে জানিয়েছেন শামীম ওসমানের ছত্রচ্ছায়ায় কীভাবে বিগত সাড়ে চার বছর ধরে পরিবহন সেক্টরে ভয়াবহ চাদাবাজি চলছে। এটাকে জনগনের রক্ত শোষনের সামিল বলে অনেকে মনে করেন। এসব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শামীম ওসমানকে নারায়ণঞ্জের জনগনের রক্তচোষা হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। তাই এসব চাঁদাবাজির একটি বিরাট প্রভাব এই নির্বাচনে পড়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এই ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে আরো বহু অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। ত্বকী হত্যাকান্ড ছাড়াও আশিক, মিঠু, চঞ্চল এবং ভুলু সাহা হত্যাকান্ডের দায়ে শামীম ওমমানের ভাতিজা ও নাসিম ওসমান এমপির একমাত্র ছেলে আজমেরী ওসমানকে দায়ী করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভি, এবং ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বিসহ আরো অনেকে প্রকাশ্যেই বিভিন্ন জনসভায় এসব অভিযোগ তুলছেন। এছাড়া এমপি নাসিম ওসমান বিগত সাড়ে চার কেবল বড় বড় কথা বলা আর দূর্নীতি ও লুটপাট করা ছাড়া আর কিছু করেননি বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। তার সহায়তায় সাতশ কোটি টাকার লক্ষীনারায়ণ কটন মিল দখল হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন বলেছেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলেই ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জবাসীর উপর নির্যাতন শুরু করে। এই পরিবার আওয়ামীলীগের গায়ে সন্ত্রাসের তকমা এটে দিচ্ছে। এই পরিবার আওয়ামী লীগকে যতো দিয়েছে নিয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশী। এছাড়া ত্বকী হত্যাকান্ডের পর প্রধানত ওসমান পরিবারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই গড়ে উঠেছে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ। যা কিনা এখন নারায়ণগঞ্জের সর্বস্থরের জনগনের সংগঠনে পরিনত হয়েছে। মূলত এভাবেই এখন ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্থর থেকে প্রতিবাদ প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন ওসমান পরিবারের তথা শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হওয়ার কারনেই আনিসুর রহমান দীপুর চরম ভরাডুবি ঘটেছে বলে আইনজীবিরা জানিয়েছে।

শেয়ার করুন