হয়রানির শেষ নেই শাহজালালে

0
73
Print Friendly, PDF & Email

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন যাত্রী হয়রানির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। কিছু কর্মকর্তার নির্দয় আচরণে সর্বস্তরের যাত্রীরা দিশাহারা। ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিদেশে কর্মরত বৈধ শ্রমিকরাও চরম হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। স্বল্পশিক্ষিত যাত্রীদের নানা প্রশ্ন করে তাদের পাসপোর্ট আটকে রেখে টাকা আদায় এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অথচ বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
মন্ত্রিসভা থেকে শুরু করে বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বিভাগীয় বৈঠকেও যাত্রী হয়রানি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে, সিদ্ধান্ত হচ্ছে হয়রানি বন্ধের। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। যাত্রী হয়রানি থামানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই। বরং দিন দিন হয়রানির মাত্রা বেড়েই চলেছে। পত্রপত্রিকায় হয়রানি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ হলে দু-এক দিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কিছুটা তৎপর থাকলেও আবার সব কিছু আগের মতোই চলতে থাকে। অভিযোগ উঠেছে, যারা যাত্রীদের সেবা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে বিমানবন্দরে নিয়োজিত আছেন, তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশই হয়রানি করছেন যাত্রীদের। দায়িত্ব পালন আর সেবার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে বিদেশের শ্রমবাজারে সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে হাড়ভাঙা পরিশ্রমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আসছেন প্রবাসীরা, সেখানে ইমিগ্রেশনের হাতে তাদের নিয়মিত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। হয়রানির মাত্রা কখনো কখনো এতই বেশি হয় যে অনেক প্রবাসী শ্রমিক কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিদেশ থেকে আসা অনেক যাত্রী বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন শাখায় সীমাহীন হয়রানি পোহানোর পর বাইরে বেরিয়েও স্বস্তি পান না। সব কাজ শেষ করে গাড়িতে ওঠার পরই তারা আর্মড পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়েন। সেখানেই অবস্থান করে সাংবাদিক নামধারী ছিঁচকে দুর্বৃত্তরা। নানা প্রশ্নে বিব্রত করা হয় যাত্রীদের। টানাহেঁচড়া করে আবার বিমানবন্দরের ভেতরে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। উপায়ন্তরহীন যাত্রীরা তাদের সব দাবি মেনে নেন মুখ বুজে। চলতি বছরের শুরুতে স্বরাষ্ট্র এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের ১০ ধাপে হয়রানি চলছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসবের সঙ্গে কারা জড়িত তাদের নাম-পরিচয়ও চিহ্নিত করা হয়। বলা হয়, ধাপে ধাপেই যাত্রীদের পকেট কেটে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অসংখ্য ফন্দিফিকির চলছে বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে ঠিকাদার ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী চক্রই হয়রানি বাণিজ্যে জড়িত। শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুট মিলিয়ে ৭৫-৮০টি বিমান ওঠানামা করে, গমনাগমন করে থাকে দেশি-বিদেশি ১৪-১৫ হাজার যাত্রী। এসব যাত্রীর জন্য আরও কয়েক হাজার দর্শনার্থী বিমানবন্দরে যাতায়াত করে। যাত্রী ও দর্শনার্থীদের টার্গেট করেই হয়রানি বাণিজ্যের নানা প্রক্রিয়া সচল থাকে সেখানে। যাত্রী হয়রানিসহ বিদেশ থেকে আগত প্রবাসীদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশের বিরুদ্ধেও। থানার সেকেন্ড অফিসার জহিরুল ইসলামের সমন্বয়ে একটি গ্রুপ বিমানবন্দরের প্রবেশপথের মোড়ে চেকিংয়ের নামে আগত যাত্রীদের গাড়ি থামায়। সেখানে মিথ্যা সাজানো নানা অভিযোগ তুলে যাত্রীদের মারধর করার ঘটনাও ঘটে। বাধ্য হয়েই যাত্রীরা মোটা অঙ্কের টাকা সেকেন্ড অফিসারের হাতে তুলে দিয়ে তবেই রক্ষা পান বলে এন্তার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে থানার সেকেন্ড অফিসার জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘যা পারেন লিখে দ্যান… আমার কোনো জবাব নাই।’
অবশ্য ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা নিজেদের দ্বারা যাত্রী হয়রানির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একজন কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, যাত্রীরা মূলত হয়রানির শিকার হন কাস্টমস হলরুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর। সেখানে ট্যাক্সিচালক, দালাল, ভুয়া সাংবাদিক, ফুটার (ছিঁচকে সন্ত্রাসী) আর আর্মড পুলিশ যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকে। কাস্টমসের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘বিমানবন্দরে যে কনভয় বেল্ট আছে তা মোটেও দ্রুত চলে না। এই বেল্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত। বাড়ানো উচিত শুল্ক কর্মকর্তাদের সংখ্যা আর হেভি লাগেজ স্ক্যানার। এতে আরও দ্রুত কাজ হবে।’
বিদেশ গমনকালের হয়রানি : যাত্রীরা বিদেশ গমনের সময় বহিরাগমন লাউঞ্জের প্রবেশমুখে নিজ নিজ মালামাল ট্রলিতে করে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার সময় পোর্টার এবং ট্রলিম্যানের হয়রানির শিকার হন। এরপর যাত্রীরা মালামাল বেল্টে দেওয়া ও এয়ারলাইনস কাউন্টারে বোর্ডিং পাস সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়ান। এ সময় এয়ারলাইনস কাউন্টারে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাসপোর্ট, টিকিট ইত্যাদি যাচাই-বাছাই করার নামে হয়রানি ও দীর্ঘসময় ক্ষেপণ করে থাকেন। যাত্রী যদি পরিচিত হন, তাদের বলা হয়- ‘আপনার বিরুদ্ধে আপত্তিকর গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে। অতএব কোনোক্রমেই আপনি বিদেশ যেতে পারবেন না। ওপরে কথা বলতে হবে।’ তবে উৎকোচ লেনদেন হলে সব কিছুই ঠিকঠাক থাকে।
যাত্রীদের অতিরিক্ত মালামাল থাকলে শুরু হয় আরেক ধরনের হয়রানি। সমঝোতার পর মালামাল বেল্টে পাঠিয়ে যাত্রীর বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়। এর আগ পর্যন্ত বোর্ডিং পাস ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর যাত্রীরা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা ব্যাংক থেকে যে দেশে যাচ্ছেন সে দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করতে গিয়ে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হন। ব্যাংক থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রা নেই। বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এদিকে বিমান উড্ডয়নের সময় এগিয়ে আসতেই যাত্রীর অস্থিরতা বেড়ে যায়। শেষ মুহূর্তে ব্যাংকের আশপাশে অবস্থানকারী অবৈধ মুদ্রা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে বাধ্য হন যাত্রীরা।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, মূলত ইমিগ্রেশন পুলিশের হয়রানির শিকার হয়ে বহির্গামী যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠছে। ব্যবসায়ী, রাজনীতিক এমনকি ছাত্ররাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাদের হাতে। অল্পশিক্ষিত যাত্রীদের নানা প্রশ্ন করে তাদের আটকে রাখাটা এখানে অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে ইমিগ্রেশন পুলিশের দক্ষতা নিয়েও। পৃথিবীর বড় বড় বিমানবন্দরে যাত্রীপ্রতি এক মিনিট বা তারও কম সময় লাগলেও এখানে যাত্রীকে ছাড় দিতে গড়ে ছয় মিনিট করে সময় নিচ্ছেন ইমিগ্রেশন সদস্যরা। ইমিগ্রেশন পুলিশের অমনোযোগিতা, অনভিজ্ঞতা, অজ্ঞতা, প্রায়ই কাউন্টার ছেড়ে উঠে যাওয়া, চা খাওয়া, নামাজ পড়া, গেস্ট বিদায় করাসহ নানা অজুহাতে দীর্ঘক্ষণ কাউন্টারে না থাকায় কাউন্টারে যাত্রী জটলার সৃষ্টি হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিপণন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় দুর্বলতা রয়েছে। একসঙ্গে দুটির বেশি ফ্লাইট এসে পড়লেই যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সব যাত্রীর ছাড়পত্র শেষ করতে বেশির ভাগ সময়ই ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হচ্ছে। অভিযোগ আছে, কম্পিউটারের সফটওয়্যারে তথ্য দিয়ে ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পর থেকে যাত্রীদের সময় ক্ষেপণের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। কারণ হিসেবে জানা যায়, ইমিগ্রেশনে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তারা কম্পিউটার ব্যবহারে ততটা পারদর্শী নন। কাজ শিখতেই বছর চলে যায়। আবার দু-তিন বছরের মধ্যেই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। তখন নতুন লোক নিয়োগ দেওয়ায় আবার একই ঘটনা ঘটতে থাকে।
আগতদের হয়রানি মাত্রাহীন : বিদেশ থেকে আগতদের হয়রানি করার যেন মাত্রা থাকে না। যত বেশি হয়রানি তত বেশি টাকা, এটা এখন বিমানবন্দর এলাকার পরিচিত স্লোগান হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় সংঘবদ্ধ চক্রটি লাগেজ গায়েব করে ফেলে। কোনো কোনো লাগেজ কেটে ভেতরের মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়। বিমান থেকে লাগেজ বেল্টে দেওয়ার আগমুহূর্তে লাগেজ কেটে মূল্যবান মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়। অনেক সময় যাত্রীদের লাগেজ আসেনি বলে জানানো হয়। বলা হয়, পরবর্তী ফ্লাইটে আসবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরবর্তী ফ্লাইটে লাগেজ এলেও লাগেজ প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছানো হয় না। এ ব্যাপারে বিমানবন্দরে যাত্রীদের হাজার হাজার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। লাগেজে দামি মালামাল থাকলে তো কথাই নেই। বলা হয়, আপনার লাগেজে অবৈধ মাল এসেছে। গোয়েন্দারা লাগেজের মালিককে খুঁজছেন। এমন পরিস্থিতিতে অজানা আতঙ্কে অনেক যাত্রীই লাগেজের আশা ছেড়ে দেন। যাত্রীর মালামাল স্ক্যানিংয়ের নামে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করতে অযথাই দেরি করানো হয়। এতে বিরক্ত হয়ে যাত্রীরা অনেক সময় টাকার বিনিময়ে মালামাল স্ক্যানিং ছাড়াই বেরিয়ে আসেন।
হয়রানি পদে পদে : বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির আরেক মাধ্যম ট্যাক্সি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে তিনটি পরিবহন সংস্থাকে ট্যাক্সি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে বিমানবন্দরে। এ তিনটি পরিবহন সংস্থা হচ্ছে বিএম ট্রান্সপোর্ট, গ্রিন বাংলা ট্রান্সপোর্ট এবং বাবা অটো গ্যাস ট্রান্সপোর্ট। কিন্তু বিমানবন্দরে কর্তব্যরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে মূলত এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের কারও কোনো নিজস্ব ট্যাক্সি নেই। তারা বাইরে থেকে ভাড়ায় চালিত ট্যাক্সি এনে ব্যবহার করছে। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সিভিল এভিয়েশন প্রতিটি কোম্পানিকে বিমানবন্দরের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় (টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২) চলাচল করার জন্য যে ডি পাস (ডিউটি পাস) দেয়, তা পরিবহন দালালরা ১৫-২০ হাজার টাকায় কিনে নেয়। এসব পাস নিয়েই দালালরা টার্মিনাল ব্যবহার করে এবং যাত্রীদের মালামাল টানাহেঁচড়া করে গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। ভাড়া নেওয়া হয় সিভিল এভিয়েশন নির্ধারিত ভাড়ার অনেক বেশি। এ ছাড়া অধিকাংশ যাত্রীকে ট্যাক্সি ভাড়ার কোনো রসিদও দেওয়া হয় না। এর ফলে বিমানবন্দর এলাকা থেকে চলে যাওয়ার পর ওই যাত্রী পথে ট্যাক্সিচালক কর্তৃক কোনো ছিনতাই বা হয়রানির শিকার হলেও রসিদ না থাকায় ওই যাত্রীর আর কোনো অভিযোগের সুযোগ থাকে না। বিমানবন্দরে ‘ফুটার’ নামে একধরনের ছিঁচকের অত্যাচারেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন যাত্রীরা। এরা পুলিশকে ম্যানেজ করে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের মালামালের ট্রলি ঠেলে দেওয়ার নাম করে অনেকটা জোর করেই টাকা ছিনিয়ে নেয়। লস অ্যান্ড ফাউন্ডেশন বিভাগও যাত্রী হয়রানির শাখা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো যাত্রীর মালামাল বিমানবন্দরে হারানো গেলে বা লাগেজ না এসে পৌঁছালে তা জানাতে হয় বিমানবন্দরের লস অ্যান্ড ফাউন্ডেশন বিভাগে। অভিযোগ, এ শাখার সদস্যরা কেউই যাত্রীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন না। লস অ্যান্ড ফাউন্ডেশন শাখা পরিচালনা করে বিমান কর্তৃপক্ষ। হারানো মালামাল পাওয়া গেলে কয়েক মাস সেগুলো দেখভাল করেন লস অ্যান্ড ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারাই। এরপর মালামালের মালিক না পাওয়া গেলে সেগুলো কাস্টমস গোডাউনে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু মালামাল হারানো যাত্রীরা লিখিত আবেদন দাখিল করলেও মালামাল পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে তাদের আর কিছু জানানোর চেষ্টাও করে না লস অ্যান্ড ফাউন্ডেশন বিভাগ। বরং নিজেদের লোককে সংশ্লিষ্ট যাত্রী সাজিয়ে মালামাল তুলে নেওয়ার নানা অভিযোগ রয়েছে। যাত্রী হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার (বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) হোসেন আহমেদ বলেন, ‘এখন যাত্রী হয়রানি অনেকটা কমে গেছে। দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। গ্রিন চ্যানেল ও ব্যাগেজের কাউন্টারে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। লাগেজ পার্টির দৌরাত্দ্য এখন তেমন নেই।’ এ ছাড়া কাস্টমসের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে তিনি জানান। অন্যদিকে আর্মড পুলিশ কর্তৃক নিরাপত্তাবিষয়ক অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে যাত্রী হয়রানি বেশি হচ্ছে এ কথা মানতে নারাজ বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার। তিনি জানান, এখানে তাদের অষ্টম ব্যাটালিয়নের ১ হাজার ১০০ সদস্য পালাক্রমে কাজ করেন। তারা অহেতুক কোনো যাত্রী হয়রানি করেন না। শুধু নিরাপত্তার দিকটিই দেখে থাকেন। বরং বিমানবন্দর এলাকায় আর্মড পুলিশ মোতায়েনের পর থেকে যাত্রী হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে।

শেয়ার করুন