কায়সারের বিরুদ্ধে ১৬ অভিযোগ

0
28
Print Friendly, PDF & Email

সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শেষ হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণসহ ১৬টি অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।

আজ রোববার তদন্ত সংস্থার ধানমন্ডির সেফ হোমের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবীর কার্যালয়ে আজই এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কায়সারের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৮ মার্চ তদন্ত শুরু হয়। চলতি বছরের ১৫ মে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কায়সারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ২১ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আটক রাখার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

তবে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে গত ৫ আগস্ট কায়সারকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, কায়সারের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে জামিন দেওয়া হলো। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে জামিন বাতিল হয়ে যাবে।

জামিনের আদেশে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, যদি কায়সারের পাসপোর্ট থাকে তাহলে তা ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিতে হবে। তিনি ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছাড়া বনানীর বাসার বাইরে যেতে পারবেন না। তিনি হবিগঞ্জসহ দেশের কোথাও ভ্রমণ করতে পারবেন না। জামিনে থাকার সময়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার সঙ্গে সাক্ষাত্ এবং গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে পারবেন না। আদেশে ট্রাইব্যুনাল তাঁর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর রেজিস্ট্রারের কাছে দিতে এবং তাঁর বাসায় এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গেলে তাঁকে সহযোগিতা করতে বলেছেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, এক সময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কায়সার এরশাদের আমলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। তিনি হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এ সময় প্রথমে তিনি হুইপ এবং পরে ’৮৯ সালে কৃষি প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

শেয়ার করুন