ক্ষমতায় গেলে হাসিনাকে জেলে নেবেন?

0
69
Print Friendly, PDF & Email

একজন পশ্চিমা কূটনীতিকের কথা শুনে বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসলেন। বললেন, এ প্রশ্ন কেন? প্রথমত, আমি প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না। আগে কখনও করিনি। ভবিষ্যতেও করবো না। পশ্চিমা কূটনীতিকের প্রশ্ন ছিল- ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনাকে জেলে  নেবেন কিনা?
অপ্রস্তুত খালেদা সময় না নিয়েই বললেন, হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
কূটনীতিক বললেন, আওয়ামী শিবিরে শুনি, ক্ষমতায় গেলে নাকি বিএনপি এই কাজটি করবে। কারণ আপনাকে বাড়ি থেকে বের করায় আপনি নাকি ভীষণ ক্ষুব্ধ। ক্ষমতায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহিংসা শুরু হয়ে যাবে। খালেদা বললেন, ওদের বলে দেবেন আমরা এই রাজনীতি করি না। আমাদের প্রতি যে অবিচার তারা করেছে, জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে তা ছিল নজিরবিহীন। আমাকে যে ভাষায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন গালমন্দ করেন তাতে আমার রাগ হওয়ারই কথা। কিন্তু আমি তা অন্যভাবে গ্রহণ করি। বিষয়টি ছেড়ে দেই জনগণের ওপর। ২১শে আগস্টের ঘটনা নিয়ে তারা কথা বলে। আমার সরকারকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। অবশ্যই আমার সরকারের সময় এটা সবচেয়ে ঘৃণিত এবং লজ্জাজনক ঘটনা। কোন সরকার কি চায় তার নিজের সরকারের বারোটা বাজাতে। শেখ হাসিনার কিছু হলে আমার সরকারই চলে যেতো। স্থিতিশীল বাংলাদেশ কাবু হয়ে যেতো অস্থিতিশীলতায়। তা ছাড়া মনে রাখবার কথা, আমি নিজে তৎকালীন বিরোধী নেত্রীর বাসভবনে যেতে চেয়েছিলাম। তিনি সেদিন যেতে দেননি। রাষ্ট্রদূত একটু গম্ভীর। জামায়াত-হেফাজত কি করবে? খালেদা বললেন আমি সরকার চালাবো। তারা কি করবে? প্রসঙ্গ পাল্টালেন। নির্বাচনের কি খবর। খালেদা বললেন, আমরা তৈরী। একটু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলেই আমরা নির্বাচনে চলে যাবো। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না এটা বোধ করি আপনি এই সময়ের মধ্যে বুঝতে এবং জানতে পেরেছেন। সরকার তো শুনছে না। তারা তো আলোচনায় আসছে না। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর বাসায় আমার দুই নেতা দেড় ঘণ্টা বসে থাকলো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ এলেন না। কেন এলেন না অনেক কথাই শুনি। তাকে নাকি ফোনে বলা হয়েছে যাওয়ার দরকার নেই। তিনি নাকি মাঝপথ থেকে বাসায় চলে যান। এরপরও কি বলবেন আমাদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি আছে? যে কোন স্থানে আলোচনা হতে পারে। আলোচনা ছাড়া এই সঙ্কটের সমাধান নেই।
সংবিধান সংশোধনের কথা শুধু আমরা কেন সবাই বলছে। সিভিল সোসাইটি বলেছে। রাজনৈতিক নেতারা বলছেন। এভাবে একটি পার্লামেন্ট বহাল রেখে নির্বাচন হয় কিভাবে? নির্বাচন কমিশন তো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা বলে গেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান সত্যি কঠিন। তারা তো পাঁচ বছর ছিলেন। অভিজ্ঞতা থেকেই বলেছেন। কোর্ট আদেশেরও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। বিএনপি বরাবরই নির্বাচনের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে। ২০০৮-এর নির্বাচনে অংশ না নিলে আওয়ামী লীগ কি ক্ষমতায় আসতো? সেনা শাসন জারি হতো। শেখ হাসিনার ভাগ্য বিপর্যয় ঘটতো। তিনি তো দেশ ছেড়ে চলেই গিয়েছিলেন। দলের অনেক সিনিয়র নেতার কথা না শুনে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছিলাম। যে নির্বাচন কমিশন আমার দল ভাঙার কাজে লিপ্ত ছিল তাদের অধীনেও নির্বাচনে আমি গিয়েছিলাম। একটাই উদ্দেশ্য ছিল, আর্মির মারের চেয়ে আওয়ামী লীগের মার ভাল হবে। আর যা-ই হোক, গণতন্ত্র তো আসবে। কই এলো গণতন্ত্র? আমার ওপরই বেশি নির্যাতন চালানো হলো। ঈদের আগ মুহূর্তে আমাকে বাড়িছাড়া করা হলো। দলের সিনিয়র নেতাদের ধারাবাহিকভাবে জেলে নেয়া হলো। এখনও নির্যাতন থামেনি। তারপরও বলছি, ক্ষমতায় যদি যাই তখন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সরকার চালাবো না। তারা এর চেয়ে বেশি কি নিশ্চয়তা চায়। এখানে তো লিখিত কিছু দেয়ার নেই। জনসমক্ষে বলবো। দলের নেতারাও বলবেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী কেন বুঝতে পারছেন না জনসমর্থন ঘুরে গেছে। এটা চটজলদি ঘুরিয়ে দেয়া যাবে না। জনগণ ভোট চায়। তারা চায় সে ভোট যেন গণনা হয়। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট, দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে আমরা যাবো না। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। মিডিয়া জরিপগুলো দেখুন। প্রতিদিন মানুষজন কি বলছে। অন্যান্য জরিপের ফলাফলও একই। এমন একটি জরিপের কথা বলুন যে জরিপে বলছে আওয়ামী লীগ জিতবে। আমি সে বিতর্কে যাবো না। আমি শুধু বলবো, গণতন্ত্রের বিকল্প তৃতীয় শক্তি নয়। আমরা কোন মতেই অন্য শক্তিকে উৎসাহিত করবো না। যারা মনে করেন অন্য শক্তির হাতে ক্ষমতা দিয়ে দুই অথবা তিন বছর পর ওদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ক্ষমতায় যাবেন তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ইতিহাস বড় নির্দয় এবং নিষ্ঠুর। আমাদের কথা শুনলে ওয়ান ইলেভেন আসতো না। শুরু থেকেই অবিশ্বাস আর সন্দেহ ছিল। আমরাও যে ভুল করিনি তা কিন্তু নয়। ভুল আমাদেরও হয়েছিল। রাষ্ট্রদূত ফের প্রশ্ন করেন, সমাধান তাহলে কোথায়? চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে খালেদা বললেন, সংলাপ। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই একটি সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে। এবার রাষ্ট্রদূত নিজেই বললেন, এটা আমাদেরও  কথা। দেখা যাক কি হয়। ম্যাডাম, আজ তাহলে উঠি। আবারও দেখা হবে।

শেয়ার করুন