সিংড়ায় অধ্যক্ষ’র দুর্নীতির খেসারত দিচ্ছে ৭শতাধিক শিক্ষার্থী

0
80
Print Friendly, PDF & Email

নাটোরের সিংড়ায় টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (টিবিএম) কলেজ ১৩দিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রায় ৭শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক রকির দুর্নীতির কারণেই খেসারত দিতে হচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। অবিলম্বে ওই প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চালুর দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

সূত্রে জানা যায়, গত ১০সেপ্টেম্বর টিবিএম কলেজের ম্যানিজিং কমিটি ও শিক্ষকদের জেনারেল মিটিংয়ে নীতিমালা বহির্ভূত ম্যানিজিং কমিটি, নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সাধারণ শিক্ষকদের ওপর অধ্যক্ষের লোকজনের হামলায় শিক্ষক আনছার আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ ৭জন শিক্ষক আহত হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অধ্যক্ষ ও তার লোকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং অধ্যক্ষ রকি ও তার মামা আবুল কালাম আজাদের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।

পরে এলাকার পরিস্থিতি শাস্ত করতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় দুপুর আড়াইটার দিকে নাটোর জেলা সার্কেল এ এসপি তরিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ এসে অধ্যক্ষসহ ১২জনকে আটক করে থানা নিয়ে যায়।

ওই দিন রাত ১০টায় সিংড়া থানায় এক জরুরী বৈঠকে অবৈধ ম্যানিজিং কমিটি পূনর্গঠনের আশ্বাসের ভিত্তিতে আহত শিক্ষকদের সাথে সমঝোতার সাপেক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেয়

কিন্তু ঘটনার ১৩দিন পেরিয়ে গেলেও এবিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় অত্র প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ থাকায় প্রায় ৭শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এছাড়া সরোজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অধ্যক্ষ রকির দুর্নীতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০০৯সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রবিধান বলে প্রমাণিত হয় তার অধ্যক্ষ হওয়ার যোগ্যতা না থাকার কারণে ৭লক্ষ ১৬হাজার একশত চুয়ান্ন টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত দিতে নির্দেশ দেয়া হয় কিন্তু তিনি তা দেননি।

২০০৪সালে একই সঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ ও ভোকেশনাল শাখার সুপারেন্টেডেন্ট হিসেবে বকেয়াসহ বেতন ভাতা এবং ১৯৯৮-৯৯সালে বিন্দাবন কুমার সরকার নামের এক গণিত প্রভাষকের ভূয়া স্বাক্ষরে বেতন উত্তোলন করে নিজে ভোগ করেন। তাছাড়া সস্প্রতি অত্র প্রতিষ্ঠানে ১১জন শিক্ষক নিয়োগের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্য ইত্যাদি।

অত্র প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণীর ছাত্র তৈয়াইব আক্তারের পিতা মুক্তার হোসেন ও অত্র প্রতিষ্ঠানের এইচ.এস.সি ২য় বর্ষের ছাত্র মাসুদ রানাসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতি করায় প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ আছে এতে আমাদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে।

ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, নীতিমালা বহির্ভূতভাবে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি করায় অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিয়োগ বাণিজ্য করার জন্য অধ্যক্ষ রকি তার মামা অত্র প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার প্রদর্শক আবুল কালাম আজাদকে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আরো ৫টি পদে তার নিকট আত্মীয়দের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অত্র প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল আহসানের মুঠোফোনে ম্যানেজিং কমিটি বিষয়ে জানান, আমি শুধু মাত্র দুই জন শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্যের নির্বাচন ২দিনে পরিচালনা করেছি। অন্য সকল পদে নির্বাচন বিষয় আমার জানা নেই বলে জানান তিনি।

ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান খান জানান, গত ১৪স্বেপ্টেম্বর শনিবার থেকে প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য অধ্যক্ষকে বলা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক বিষয়ে তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রফিকুল ইসলাম কে আহবায়ক করে ৩সদস্য বিশিষ্ট  একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক রকির মুঠোফোনে প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে তিনি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন এবং তিনি চাপের মধ্যেও রয়েছেন বলে জানান।

শেয়ার করুন