স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলার পর মাকে মারধর?

0
147
Print Friendly, PDF & Email

ফেনীর দাগনভূঞায় এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে এক যুবক ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করায় ওই ছাত্রীর মাকে মারধর করে দুর্বৃত্তরা। মারধরের ঘটনায় দাগনভূঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ওই স্কুলছাত্রীর মামলার আরজি ও তার মায়ের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ জুন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদীনের মামাতো শ্যালক মো. সাব্বির (২৩) জোর করে তুলে দাগনভূঞা সদরে নিয়ে যান। সেখানে তার কাছ থেকে কয়েকটি কাগজে সই আদায় করে বিয়ে হয়েছে দাবি করেন সাব্বির। এরপর ওই ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে খাগড়াছড়িতে নিয়ে গিয়ে ১৫ দিন অবস্থান করেন। পরে সেখান থেকে ঢাকায় গিয়ে প্রায় এক মাস থাকেন। এরই মধ্যে মেয়েটির পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা আদায় করেন সাব্বির। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং বিয়ের কথা অস্বীকার করেন।
পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটিকে জোর করে তুলে নেওয়া এবং বিয়ের কথা বলে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার বিষয়টি জয়নাল আবদীনকে জানাতে গেলে তিনি তাঁদের হেনস্তা করেন। জয়নাল মেয়েটিকে নষ্টা আখ্যা দিয়ে স্কুলে যেতে নিষেধ করেন।
ছাত্রীর পরিবার জানায়, সামাজিকভাবে বিচার চেয়ে না পেয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর মেয়েটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। মামলায় জয়নাল আবদীন, উপজেলার রাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান এবং মো. সাব্বির, সামছুল করিম ও সাব্বিরের মা খুরশিদা বেগমকে আসামি করা হয়।
ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, আদালতে মামলা করার পর আসামিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার কয়েক ব্যক্তি মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে তার মাকে মারধর করে।
মারধরের ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা দাগনভূঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নিয়েছে।
জয়নাল আবদীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে স্কুলে যেতে নিষেধ করিনি, বরং স্কুলে যেতে বলেছি। কিন্তু সে নিজেই স্কুলে যায় না। কিছু লোক আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।’
দাগনভূঞা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু আমরা মামলার কোনো কাগজপত্র পাইনি।’ থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, মারধরের অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন