চার লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি

0
78
Print Friendly, PDF & Email

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে প্রায় চার লাখ দলীয় কর্মীকে ‘পোলিং এজেন্ট’-এর প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি প্রশিক্ষক টিমও গঠন করা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার ওপর। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্র ঘোষিত প্রশিক্ষক কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ এস এম আবদুল হালিম, সাবেক সংস্থাপন সচিব মনিরুজ্জামান খান, সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব আবদুর রশীদ সরকার, সাবেক ইআরডি সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জহরুল ইসলাম ও সাবেক যুগ্ম সচিব হারুন অর রশীদ। ইতোমধ্যেই তারা এ নিয়ে কয়েকদফা বৈঠকও করেছেন। কিন্তু সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বেগম জিয়ার বিভাগীয় জনসভার কারণে প্রশিক্ষকরা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষক দল প্রতিটি জেলায় অন্তত দুজন করে সিনিয়র পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেবেন। পরে জেলা পর্যায়ের ওইসব প্রশিক্ষক তৃণমূলে, বিশেষ করে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য দল সমর্থিত অন্তত দুজনকে প্রশিক্ষণ দেবেন। এ হিসাবে দেখা যায়, প্রায় দুই লাখ ভোটকক্ষের বিপরীতে চার লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত নামের তালিকা চেয়ে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, প্রশিক্ষণের পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর। একতরফাভাবে নির্বাচন হলে বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না। সেক্ষেত্রে এত বিশালসংখ্যক পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়বে না। তিনি জানান, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বিএনপি অপ্রস্তুত অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেয়। সেখানে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে দলের নেতা-কর্মীরা নানা সমস্যায় পড়েন। অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট না থাকার কারণে ভোট গণনায়ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিবেচনায় আগেভাগেই পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদে দেশে ৯ কোটি ২১ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে। ভোটার সংখ্যা অনুপাতে এবার ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা হবে ৪৪ হাজার ৭৯টি। নবম সংসদে ৮ কোটি ১০ লাখের বেশি ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৫ হাজার ২৬৩টি (ভোটকক্ষ ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৭টি)। এবার আরও কিছু ভোটকক্ষ বেড়ে এর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ হতে পারে। সেই হিসাবে বিএনপি প্রতি ভোটকক্ষের জন্য দুজন করে দলীয় কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে পোলিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় চার লাখ। সূত্র মতে, জেলা পর্যায়ের সিনিয়র পোলিং এজেন্টকে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে পারে। তফসিল ঘোষণার পর তৃণমূলে একযোগে প্রশিক্ষণ শুরু হবে। প্রতিটি সংসদীয় আসন থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী তৃণমূলের পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া তালিকা এমপি প্রার্থীদের পছন্দ না হলে হিতে বিপরীত হবে। তাই প্রতিটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরই মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তৃণমূলের প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব আবদুর রশীদ সরকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিভাগীয় জনসভার পরই প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তবে প্রশিক্ষণের বিষয়টি নির্ভর করবে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার ওপর। কোনো কারণে বিএনপি নির্বাচনে না গেলে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার করুন