নির্দলীয় সরকারের বিল পাস না পর্যন্ত আলোচনা নয়

0
39
Print Friendly, PDF & Email

সংসদে নির্দলীয় সরকারের বিল পাস না করা পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সরকারি দলের সঙ্গে বিএনপি কোনো আলোচনায় যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

রোববার গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর জেলা স্কুল মাঠের জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে জেনে একের পর এক গণবিরোধী আইন পাস করে চলেছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না। শেখ হাসিনার অধীনে কখনই নিরেপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি।

দেশে নির্বাচন চাই, আর তা হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হবে—এ কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হতে পারে অন্য কিছু নিয়ে নয়।

‘আমি ভোট চাইতে আসিনি। ভোট রুখতে এসেছি। আওয়ামী লীগের পাতানো ভোট রুখতে হবে বলে জানান খালেদা জিয়া। বিরোধীদলের নেতা নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন অথর্ব, মেরুদণ্ডহীন, ‘এখনও যখন আছেন তখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ান। না হলে আপনাদেরকেও বিদায় নিতে হবে।’

জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে, আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আমার নয়, তার। তিনি বলেন, ‘আপনাকে মানার প্রশ্ন আসে না। আপনি দলীয়প্রধান। আপনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আপনাকে বিদায় নিতে হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়—এ কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে দুর্বিসহ অবস্থা সৃষ্টি হয়, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে দেশ লুটেপুটে খাবে। দেশের সম্পদ পাচার করে দেশকে দেউলিয়া করে দেবে। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস করে আর তাদের আমলেই দেশে বিভিন্ন জায়গায় বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে বিএনপির আমলে নয়।

বিএনপি ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, গণতন্ত্রের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে—এ কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের গণতন্ত্ররক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে নেমেছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ বহুদলীয় গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে একতরফা নির্বাচন করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, সত্যকে চাপা দিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাহরণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

আগামীতে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করা হবে, দেশ থেকে পুরোপুরি দুর্নীতি বন্ধ করা হবে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ানো হবে, বেকারদের চাকরি নিশ্চিত করা হবে। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে বলে জানান তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, আমার শুধু একটাই দাবি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন— এ দাবি সঙ্গে যদি আপনারা একমত হয়ে থাকেন তাহলে রাজপথে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

জামাতের ওপর সরকার নির্যাতন চালাচ্ছে–এ কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া সকল রাজবন্দির মুক্তি দাবি জানান।

রংপুরে খালেদা জিয়ার সমাবেশ সফল করতে দলের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়। রং-বেরঙের ব্যানার ফেস্টুনে পুরো নগরী সাজানো হয়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে তৈরি করা হয় তোরণ।

এদিকে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজ থেকে রংপুরের যান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

গত ৮ সেপ্টেম্বর নরসিংদী থেকে সারাদেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের জনসভা কর্মসূচি শুরু হয়। রংপুরের পর সোমবার রাজশাহীতে বিএনপি চেয়ারপারসনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ২২ তারিখ খুলনার জনসভা হওয়ার কথা থাকলেও সেটির তারিখ পরিবর্তন হয়ে ২৯ তারিখ খুলনায় জনসভার তারিখ ঠিক করা হয়েছে। আর ২৯ তারিখে বরিশালে অনুষ্ঠিতব্য জনসভাটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

এরপর ৫ অক্টোবর সিলেটে জনসভার পর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে চট্টগ্রাম এবং সর্বশেষ ঢাকায় জনসভা করবেন খালেদা জিয়া।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর রংপুরে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

শেয়ার করুন