ধানের শীষে খাদ্যঘাটতি নৌকায় গোলাভরা ধান

0
45
Print Friendly, PDF & Email

সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবার নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে বঞ্চিত হননি। আওয়ামী লীগ নৌকা নিয়ে আসে। আর গোলায় ধান দেয়। কিন্তু বিএনপি ধানের শীষ নিয়ে আসে। দেশে খাদ্যঘাটতি তৈরি করে। আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। নৌকা শান্তি দেবে, উন্নয়ন দেবে, সমৃদ্ধি দেবে। সাক্ষরতা শতভাগ এগিয়ে নিয়ে যাব। নৌকা ক্ষমতায় এলে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস থাকবে না। গতকাল আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জনসভায় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে তিনি এ সময় হাত তুলে এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা কি দেবেন ভোট?’ জনতাকে হাত তুলে ওয়াদা করতে বললে হাজার হাজার জনতা দুই হাত উঁচিয়ে ওয়াদা করেন। তখন ছাত্রীরাও হাত তুলে ‘হ্যাঁ’ জানায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অনেকেই ভোটার হয়নি। আগামীতে ভোটার হলে ভোট দেবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় বেশ কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করেন। আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সরকারিকরণ ঘোষণা, ইডেন মহিলা কলেজের ১০ তলা ছাত্রী হোস্টেল উদ্বোধন, মিটফোর্ড জিআইএস বিদ্যুৎ (৩১) উপকেন্দ্র, প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধনসহ বহুতল বিশিষ্ট শহীদ নগর মাতৃসদন, ইসলামবাগ কমিউনিটি সেন্টার কাম মার্কেট, বহুতল বিশিষ্ট মাতৃসদনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। বিকাল পৌনে ৫টায় বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বক্তব্যের শুরুতে তার শৈশবের বিদ্যাপীঠ স্কুল আজিমপুর গার্লস স্কুল নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন। আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সরকারি ঘোষণা করে এই বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ আমার আনন্দের দিন। আমার স্কুল আজিমপুর গার্লস স্কুল এখন থেকে সরকারি স্কুল। বিএনপি-জামায়াত ‘৯৬ সালের মতো এবারও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ধর্মের দোহাই দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোরআন হাতে, মসজিদে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কথা বলে এরা কেমন মুসলমান। পবিত্র কোরআন পুড়িয়ে তারা কীভাবে ইসলামের হেফাজত করবে। তারা ‘৯৬ সালেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছিল- আওয়ামী লীগ এলে মসজিদে আজান হবে না। কিন্তু গত ৪ বছরে কোনো মসজিদে আজান বন্ধ হয়নি। মানুষ সুন্দরভাবে ধর্ম পালন করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে হত্যা, খুন, দুর্নীতি ছাড়া কিছুই হয় না। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। মানুষের সমস্যা সমাধান হয়। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকটের সমাধান করেছি। ঢাকা শহরকে যানজটমুক্ত করতে বিভিন্ন ফ্লাইওভার করে যাচ্ছি। বিরোধী দলের নেতার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আপনার হুমকি-ধমকিতে কাজ হয়নি। ঢাকাবাসীকে ডেকে ছিলেন কেউ যায়নি। হেফাজতের হুজুরদের ২০০ গরু জবেহ করে খাওয়াবেন বলেছিলেন, একমুঠো ভাতও খাওয়াননি। আওয়ামী লীগ ইসলাম ধর্মের জন্য কাজ করে।হেফাজতের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, এবারও তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঢাকায় নাকি সব মুসলি্লকে হত্যা করা হয়েছে। গত ৪ঠা মে বিরোধীদলীয় নেতার আলটিমেটামের পর হেফাজত মতিঝিলে অবস্থান নেয়। তারা আশপাশে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। জনগণের জান মালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এর পর তারা প্রথম দাবি করেছিল ওই রাতে তাদের আড়াই হাজার লোক মারা গেছে। আমরা তালিকা চাইলাম তালিকা দিতে পারেনি। পরে তালিকা দিল ৬১ জনের, যেখানে ২৫ জনের কোনো ঠিকানা নেই। তিনজন জীবিত ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেন এই মিথ্যা অপপ্রচার। এসব বিষয়ে তারা বিভিন্ন এলাকার মা-বোনদের নিকট অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোতোয়ালি ও লালবাগ থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি, আশরাফুন্নেস মোশারফ এমপি, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্চাসেবক লীগের পংকজ ভট্টাচার্য, কৃষক লীগের মোতাহার হোসেন মোল্লা, ছাত্রলীগের বদিউজ্জামান সোহাগ, যুবলীগ উত্তরের মইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলে কোনো মানুষকে না খেয়ে থাকতে হবে না। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে আমরা ক্ষমতায় এলে ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করব। কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, একটি লোকও নিরক্ষর থাকবে না। সাক্ষরতার হার শতভাগে নিয়ে যাব।যেমন খুশি তেমন সাজোতে প্রথম হয়েছিলামবক্তব্যের একপর্যায় প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। তিনি পুরনো দিনের কথা মনে করে বলেন, এই স্কুলের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। আমার রাজনীতির হাতেখড়ি এই স্কুল থেকে। ১৯৬২ সালে ছাত্র-আন্দোলন হয়েছিল। তখন শিক্ষকদের চোখ এড়িয়ে আমরা স্কুল থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যায়ের বটতলায় মিটিং শুনতে যেতাম। স্কুলের ওই দোলনায় অনেক দোল খেয়েছি। এই মাঠে হাডুডু খেলেছি। স্কুলজীবন সবচেয়ে সুন্দর জীবন। মনে পড়ে একবার যেমন খুশি তেমন সাজোতে আমি প্রথম হয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘ক্লাস শেষে কতবেল, তেঁতুলের আচার খেতে খেতে বাড়ি ফিরতাম। তার মজা অন্যরকম ছিল। কিন্তু এখন আর সেদিন আসবে না।আজিমপুর গার্লস স্কুলকে সরকারিকরণ ঘোষণা : রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল ও কলেজকে সরকারিকরণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল আজিমপুরে এক জনসভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।জনসভায় ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্কুলজীবন হলো মানুষের সবচেয়ে সুন্দর সময়। আজ সেই স্কুলে আসতে পেরে খুব খুশি লাগছে। আমার মনে আছে, আমি যখন স্কুল শেষ করে বাসায় ফিরতাম, তখন কদবেল বা তেঁতুলের আচার কিনে খেতাম। দিনগুলো খুব মধুর ছিল।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলকে সরকারি করার দাবি জানিয়ে ছিল। আজ থেকে এ স্কুলকে সরকারি করে দেওয়া হলো।”শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন গোলাভরে ধান আনে, নৌকাভরে ফসল আনে।”এ সময় উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে আপনারা কি আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন?”উপস্থিত জনতা ও শিক্ষার্থীরা ‘হ্যাঁ’ বলে উত্তর দিলে প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, এখানে অনেক শিক্ষার্থীরই এখনো ভোট দেওয়ার বয়স হয়নি। তবে তারা যখন ভোটার হবে, ইনশাল্লাহ তারা তখন নৌকাতেই ভোট দেবে।

শেয়ার করুন