শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বিএনপি

0
39
Print Friendly, PDF & Email

আন্দোলন নয়, বরং শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সঙ্কট সমাধানে যে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দলটি। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সমাবেশের মাধ্যমে চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সরকার সমঝোতায় না এলে রাজপথ দখলে নেবে তারা। তবে কবে নাগাদ নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে নামবে তা এখনও ঠিক করতে পারেনি দলটি। কোরবানির ঈদের পর ঢাকার সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি দেবে বিএনপি। কর্মসূচি ঘোষণার আগে কোরবানির ঈদের পর দলের নীতিনির্ধারকদের নিয়ে বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর জোটের শরিকদের সঙ্গেও বৈঠক করবে তারা। কোরবানির ঈদের পর কী ধরনের কর্মসূচি আসবে সে সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবদল আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, দাবি না মানলে কোরবানির ঈদের পর রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বাসভবনে বিদেশি কূটনৈতিকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা, ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ অংশ নেন। সেখানে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। তবে কোনো পক্ষই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। এছাড়াও বিভিন্নভাবে উভয় দলের নেতাদের নিয়ে প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূতরা বৈঠকে বসে সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জে. (অব.) আ স ম হান্নান শাহ গতকাল জানান, সরকারের চাল দেখে পাল্টা চাল দেবেন তারা। স্বেচ্ছায় সরকার দাবি মানলে কঠোর আন্দোলনে তারা যাবেন না। আর সরকার দাবি না মানলে কোরবানির ঈদের পর ঢাকায় ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে যে সমাবেশ হবে, সেখান থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আন্দোলন কবে থেকে শুরু হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কোরবানির ঈদের আগেই ঢাকার সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। সে ক্ষেত্রে অক্টোবরের শেষদিকে ঢাকার সমাবেশ হবে। সেখান থেকে আন্দোলনের কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন তিনি।
ঢাকার সমাবেশ সম্পর্কে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম বলেন, আমরা এখন মহানগরের বিভিন্ন স্থানে কর্মিসভা করছি। এগুলো শেষ হলে ঈদের পর ঢাকার কর্মসূচির তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
দলের একটি সূত্র জানায়, রোজার ঈদের পর কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত আন্দোলনে যায়নি তারা। এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ সরকার আশা করেছিল বিএনপি কঠোর আন্দোলনে গেলে পুলিশ প্রশাসন ব্যবহার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে আরও বেশি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করত। সে সুযোগ তারা দেয়নি। নেতাকর্মীদের শক্তি-সামর্থ্য অটুট রইল। কোরবানির ঈদের পর যখন তারা যে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবেন, সে সময় নেতাকর্মীরা সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, সরকার কবে নির্বাচন দেবে, কখন সংসদ ভেঙে দেবে তার ওপর নির্ভর করবে বিএনপির আন্দোলন। কারণ দফায় দফায় সরকার তার অবস্থান পাল্টাচ্ছে। সরকার নিজেই ঠিক করতে পারছে না কবে তারা নির্বাচনে যাবে। তাই তাদের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছেন তারা।
এদিকে গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে ১৮ দলীয় জোটের মহাসচিবদের এক বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে নোমান জানান, আগামীকাল নরসিংদীতে যে জনসভা হবে তা সফল করতে তারা এ বৈঠক করেছেন। সঙ্কট সমাধানে সংলাপ না হলে ঈদের পরপরই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। তিনি বলেন, ১৮ দলীয় জোটের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আমাদের পেছনের যাওয়ার সুযোগ নেই। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে জনমত গড়তে আট জেলায় খালেদা জিয়ার জনসভার কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহে।
নরসিংদীর জনসভা সম্পর্কে নোমান বলেন, আমরা আশা করছি, নরসিংদীর জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে। সেভাবে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওই জনসভা উপলক্ষে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহের সৃষ্টি হয়েছে। দেশনেত্রী এই জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। আগামীকাল দুপুর ২টায় জনসভা শুরু হবে। বিরোধীদলীয় নেতা নরসিংদীর উদ্দেশে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হবেন দুপুর ১টায়। সভায় জোটের নেতারা অংশ নেন।

শেয়ার করুন