বিশ্বনেতাদের কাছে বিমুখ ওবামার নিজ দেশে ধরনা

0
73
Print Friendly, PDF & Email

জি-২০ সম্মেলনে বিমুখ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফিরে গেছেন ওয়াশিংটনে। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার অপরাধের অভিযোগ তুলে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর যে প্রস্তাব ওয়াশিংটন করছে,  অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশগুলোর ওই শীর্ষ সম্মেলনে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি তাতে।
তাই বলে আশা ছাড়েননি ওবামা। সিরিয়া সংকট নিয়ে উত্তেজনা এখন ওয়াশিংটনে। হামলা হবে কি হবে না—এ নিয়ে সংশয়, উদ্বেগ, উত্তেজনা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবখানে। এই সামরিক অভিযানের যথার্থতা নিয়ে ওবামা সরাসরি কথা বলবেন জনগণের সঙ্গে। অভিযানের বিষয়টি অনুমোদনের জন্য এর আগে তিনি কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্যয়বহুল একাধিক যুদ্ধে ক্লান্ত যুক্তরাষ্ট্রে এখন যুদ্ধবিরোধী মনোভাব খুব জোরালো। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সিরিয়ায় অভিযান নিয়ে খোদ তাঁর দলের আইনপ্রণেতারাও একমত নন। অভিযানের আগে ওয়াশিংটনের রাজনীতি জয় করাই এখন প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে দুরূহ হয়ে উঠেছে।
অবকাশ শেষে কংগ্রেসের সদস্যরা এখন ওয়াশিংটনের পথে। ওবামাও ফিরেছেন দেশে। অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা গেছে, নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিপক্ষে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক। সাধারণ মার্কিনদের মতো আইনপ্রণেতারাও চরমভাবে বিভক্ত সিরিয়ায় সামরিক অভিযান প্রশ্নে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেস উত্তপ্ত হয়ে উঠবে সিরিয়া সংকট নিয়ে।

জি-২০ সম্মেলন শেষে ওবামা নিজেই বলেছেন, সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের জন্য জনগণ ও আইনপ্রণেতাদের সমর্থন আদায়ে তাঁকে বেগ পেতে হচ্ছে। হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার আমেরিকার জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন ওবামা। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন তিনি। পরদিন বুধবার কংগ্রেসে সিরিয়া বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকলেও সিরিয়ায় হামলার দায় এককভাবে নিতে চান না ওবামা। জনমতের চাপে আইনপ্রণেতারাও সিরিয়ায় হামলার প্রশ্নে মুখ খুলছেন সতর্কভাবে।

প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর  মতে, সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে মাত্র ২৩ জন প্রকাশ্যে সিরিয়ায় হামলা করার পক্ষে। ১৭ জন সিনেটর প্রকাশ্যে অভিযানের বিপক্ষে। যেসব সিনেটর মুখ খুলছেন না, তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট নয়।

সিরিয়ায় সামরিক হামলার প্রস্তাব সিনেটে গ্রহণের জন্য প্রয়োজন ৬০ জনের সমর্থন। অভিযানের প্রস্তাব গ্রহণের জন্য কংগ্রেসে ২১৮ জনের সমর্থনের প্রয়োজন; কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ২৫ জন কংগ্রেস সদস্য সিরিয়ায় হামলার পক্ষে মত জানিয়েছেন, আর বিপক্ষে মত দিয়েছেন ১০৬ জন সদস্য।

সামরিক অভিযানের পক্ষে থাকা ডেমোক্রেটিক দলের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন,  দোদুল্যমান অবস্থানে থাকা কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সমর্থন আদায়ের জন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সরাসরি কথা বলবেন এসব সদস্যের সঙ্গে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ওবামা সিরিয়ায় হামলা চালাবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।

ওবামা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, উপনিরাপত্তা উপদেষ্টা টনি ব্লিনকেন  গত শুক্রবার বলেছেন, সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকলেও প্রেসিডেন্ট ওবামা তা প্রয়োগ করতে অনিচ্ছুক। কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েই অভিযান পরিচালনা করতে চান প্রেসিডেন্ট।

রাজনৈতিকভাবে বৈরী অবস্থানে থাকলেও সিরিয়া প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ওবামার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন। তবে রিপাবলিকান দলের মধ্যে এখন সিরিয়ায় সামরিক অভিযানবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট।

প্রভাবশালী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা টম কোল বলেন, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। আধিপত্য নিয়ে সিরিয়ার জনগোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে লড়াই করছে। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি কি না, এ বিষয়টি আগে বিবেচনা করতে হবে।

শেয়ার করুন