খালেদার সফর নিয়ে উজ্জীবিত খুলনা বিএনপি

0
116
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ২২ সেপ্টেম্বরের সফরকে সামনে রেখে উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন খুলনা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
 
খুলনা বিএনপির দলীয় সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, খালেদা জিয়ার খুলনার জনসভাকে স্মরণকালের জনসভায় পরিণত করতে দিনরাত প্রচারণা শুরু করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

প্রচারণার কাজ রেখে বসে নেই দলের কোনো স্তরের নেতাকর্মী। প্রচারণার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীরা। কর্মীসভা, বর্ধিতসভা আর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিনিময় করে দলীয় কোন্দল নিরসনের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলাম খুলনা বিএনপির কর্মী সভায় খালেদা জিয়ার জনসভা সফলে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করেছেন। পাশপাশি দলীয় কোন্দল নিরসনেরও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। যার কারণে জেলা কমিটির দুই গ্রুপের ভেতরের কোন্দল নিরসন হয়েছে বলে দাবি করছে সূত্রটি।
 
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বাংলানিউজকে বলেন, দলের মধ্যে যেসব ভুল বোঝাবুঝি ছিলো তা নিরসন হয়েছে। খুলনা বিএনপি এখন একট্টা।

তবে একটি সূত্রের দাবি, বিএনপির একটি পক্ষ পদ পদবী ধরে রাখার ভয়ে দলীয় প্রধানের আগমনের আগে কৃত্রিমভাবে একত্রিত হওয়ার অভিনয় করছে।

শুক্রবার বিকেলে খুলনা মহানগর বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এহতেশামুল হক শাওন বাংলানিউজকে বলেন, নেত্রীর আগমনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলীয় কোন্দলের উর্ধ্বে থেকে সম্মিলিতভাবে মাঠে নেমেছেন তারা।

তিনি জানান, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের এক দফার আন্দোলন বেগবান করার লক্ষ্যে খুলনায় আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওইদিন দুপুর ২টায় মহানগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানের জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে খুলনায় এটি তার তৃতীয় সফর।

এরআগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর রোড মার্চ নিয়ে তিনি খুলনায় আসেন এবং সার্কিট হাউজ মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি বাংলানিউজকে জানান, খালেদা জিয়া ২১ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হবেন।

তিনি যমুনা সেতু ও লালন শাহ সেতু হয়ে খুলনা বিভাগে প্রবেশ করবেন। মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা জেলায় কয়েকটি পথ সভায় বক্তব্য রাখবেন। রাতে তিনি যশোর সার্কিট হাউজে পৌছাবেন এবং রাত্রিযাপন করবেন। ২২ সেপ্টেম্বর সকালে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং দুপুরে জনসভাস্থলে পৌঁছাবেন।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য, ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা খুলনায় অবস্থান করবেন। বিভাগীয় সদর খুলনার জনসভা সফল করতে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম।

জনসভায় খুলনা ছাড়াও বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা আসবেন। জনসভায় পাঁচ লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, সার্কিট হাউজ ময়দানকে জনসভার মঞ্চ গণ্য করে সমগ্র খুলনা মহানগরীকে সমাবেশস্থলে পরিণত করা হবে। অতীতে খুলনা বিভাগীয় রোড মার্চে আমার সেই সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ দিয়েছিলাম। এবার তার চাইতেও অনেক বেশি জমায়েত ঘটবে। বিশেষ করে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সহ দেশের পাঁচ সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের বিপুল বিজয় আমাদের নেতাকর্মীদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করেছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। তারা খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন।

এমপি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার জনসভা সফল করতে ইতিমধ্যে ১৬ টি সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মহানগর, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন এবং ইউনিট পর্যায়ে প্রতিদিনই অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রস্ততি সভা। সমস্ত খুলনা মহানগরী এবং নগরীতে প্রবেশের মুখে সকল উপজেলায় শত শত তোরণ নির্মাণ করা হবে। বর্ণিল সাজে, ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড, আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।

শেয়ার করুন