ফেলানি হত্যা: অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য খালাস

0
53
Print Friendly, PDF & Email

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানি খাতুন হত্যার মামলায় অভিযুক্ত সীমান্তরক্ষীকে নির্দোষ বলে রায় দিয়েছে বাহিনীর নিজস্ব আদালত।

এই রায়ের পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বিএসএফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে। বিএসএফের সূত্রগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে।

তবে বিএসএফের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয় নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর কোর্টমার্শালের অনুরূপ বিএসএফের নিজস্ব আদালত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট তাদের বিচার শেষ করে।

এই রায়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বাহিনীর মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হবে।

অগাস্টের ১৩ তারিখ থেকে ফেলানি হত্যা মামলার বিচার চলছিল ভারতের কোচবিহার জেলায় সোনারি বিএসএফ ছাউনিতে।

মোট পাঁচজন বিচারক গোটা বিচার প্রক্রিয়া চালান আর কোর্ট পরিচালনা করেন বিএসএফের গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের ডি আই জি কমিউনিকেশনস সি পি ত্রিবেদী।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী ভোরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময়ে ফেলানি খাতুন কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যান।

দীর্ঘক্ষণ তাঁর দেহ বেড়ার ওপরেই ঝুলে ছিল।

মি. ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বি এস এফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

ফেলানি হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দিতে বাংলাদেশ থেকে তাঁর বাবা ও মামা ভারতে এসেছিলেন।

বি এস এফের কয়েকটি সূত্র সাক্ষ্যগ্রহনের দিনই জানিয়েছিল যে চোখের সামনে মেয়েকে মারা যেতে দেখার বর্ণনা দিয়েছিলেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম।

তিনি বি এস এফ কোর্টকে জানিয়েছিলেন, ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল দেশে, তাই মেয়েকে নিয়ে এক দালালের মাধ্যমে বেড়া পেরিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

সেই দালালের কথা মতো ভোরের আজানের সময়েই তাঁদের বেড়া টপকানোর কথা ছিল। স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে সেই দালাল বেড়া টপকানোর জন্য কাঠের পাটাতনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

বি এস এফ সূত্রগুলো ফেলানীর বাবা মি. ইসলামের বয়ান উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, প্রথমে ফেলানীর বাবা বেড়া টপকিয়ে বাংলাদেশের দিকে চলে যান। তারপরে যখন ফেলানী একটি বেড়া টপকিয়ে অন্য বেড়ার দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন তাঁর জামা কাঁটাতারে আটকিয়ে যায়। আর সেই সময়ে বি এস এফের এক সদস্য দেখে ফেলেন ও সাবধান করেন। দালালের সঙ্গে থাকা লোকজন বি এস এফ সদস্যর দিকে ঢিল ছুঁড়তে শুরু করেন। তখনই গুলি চলে।

দীর্ঘক্ষণ কাঁটাতারের বেড়াতেই ঝুলে ছিল ফেলানীর মৃতদেহ। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শুধু ভারত বা বাংলাদেশের নয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বি এস এফের কড়া নিন্দা করেছিল।সূত্র: বিবিসি বাংলা

শেয়ার করুন