বাংলা চলচ্চিত্রের নক্ষত্র সালমান বিহীন সতের বছর

0
80
Print Friendly, PDF & Email

 কেটে গেল সতেরটি বছর। প্রিয় নায়কের স্মৃতি বুকে আগলে রেখে এখনও হয়তো অনেক ভক্ত আশার দিন গোনে। যদিও তারা জানেন, তাদের সেই আশায় গুড়েবালি। সালমান চলে গেছেন ওই দূর আকাশে। কখনোই ফিরে আসবেন না। টিভি সেটের সামনে বসে প্রিয় নায়কের ছবি দেখে নীরবে, নিভৃতে হয়তো অনেকেরই দু’ফোঁটা অশ্র” চোখের কোণে ঝিলিক দিয়ে ওঠে।কর্মমুখর এফডিসি, চলচ্চিত্র শিল্পের ১৭টি বছর কেটে গেল বাংলা চলচ্চিত্রের নক্ষত্র সালমান শাহকে ছাড়া। আগামীকাল অমর এই নায়কের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৬ সালের এই দিনে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান সালমান শাহ। যার মৃত্যু আজও সবার কাছে রহস্যই রয়ে গেছে।

হজরত শাহজালাল (র.)-এর পুণ্যভূমি সিলেটের মাটিতে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন প্রবাদপ্রতিম এই নায়ক। নব্বই দশকের শুরুর দিকে ঢাকার চলচ্চিত্রে যে ফ্যাশনেবল নায়কটির আবির্ভাব ঘটে তার নাম সালমান শাহ। পোশাক-আশাক কিংবা অভিনয়, সবকিছুতেই অনেকের আইডল হয়ে উঠছিলেন তিনি। সেই সময় এমন কোনো জনপ্রিয় নায়িকা নেই যে তার বিপরীতে কাজ করেননি। শাবনূর-মৌসুমী থেকে শুরু করে শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, বৃষ্টি, শ্যামা- প্রত্যেকেই সালমানের বিপরীতে কাজ করেছিলেন।

সালমানের মৃত্যুর পর তারই অনুসারী হয়ে চলচ্চিত্রে পরবর্তীতে দাপটের সঙ্গে কাজ করে গেছেন রিয়াজ, শাকিল খান ও ফেরদৌস। অনেকেই হয়েছেন তারকা। কিন্তু যার অবদানে চলচ্চিত্রাভিনয়ে একটি বিপ্লব ঘটেছিল সেই মহানায়কের মৃত্যুরহস্য নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। নেই কোনো মন্তব্য। এটাই জাগতিক নিয়ম। যে চলে যায় তাকে নিয়ে ভাবার সময় কারোই থাকে না।

সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি, পরিচালক সমিতি নিয়মমাফিক প্রতিবছরই তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে থাকে। এর বাইরে সালমান শাহের ভক্তরা তাদের প্রিয় নায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক পালন করে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

সালমান শাহ অভিনীত ছবিগুলো হচ্ছে- কেয়ামত থেকে কেয়ামত (বিপরীতে মৌসুমী), তুমি আমার (শাবনূর), অন্তরে অন্তরে (মৌসুমী), কন্যাদান (লিমা), জীবন সংসার (শাবনূর), চাওয়া থেকে পাওয়া (শাবনূর), সুজন সখী (শাবনূর), বুকের ভেতর আগুন (শাবনূর), এই ঘর এই সংসার (বৃষ্টি), স্নেহ (মৌসুমী), বিচার হবে (শাবনূর), প্রেমযুদ্ধ (লিমা), মহামিলন (শাবনূর), তোমাকে চাই (শাবনূর), বিক্ষোভ (শাবনূর), আশা ভালোবাসা (শাবনাজ), মায়ের অধিকার (শাবনাজ), আঞ্জুমান (শাবনাজ), আনন্দ অশ্র” (শাবনূর), সত্যের মৃত্যু নেই (শাহনাজ), প্রিয়জন (শিল্পী), শুধু তুমি (শ্যামা), স্বপ্নের পৃথিবী (শাবনূর), স্বপ্নের নায়ক (শাবনূর), দেনমোহর (শাবনূর) ও স্বপ্নের ঠিকানা (শাবনূর)।

সর্বাধিক ১৪টি ছবিতে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন শাবনূর। সালমান শাহকে নিয়ে একটি ছবি প্রযোজনা করেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা খলিল। মালেক আফসারির পরিচালনায় ছবিটির নাম ‘এই ঘর এই সংসার’।

সালমান শাহর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে খলিল বলেন, ‘এখন তো ঘরে বসেই সময় কাটছে আমার। অবসর সময়ে কতকিছুই না মনে পড়ে। মনে পড়ে সালমানের কথাও। খুব ভালো মনের মানুষ ছিল সালমান। অত্যন্ত বিনয়ী একজন শিল্পী ছিল। আমাদের চলচ্চিত্রের হাওয়া বদলে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু তার চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা আজও কেউ পূরণ করতে পারেনি। পারবে কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তবে এটা সত্যি যে আল্লাহ তাকে আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ পাঠিয়েছিলেন। সেই আশীর্বাদ ছিল ক্ষণস্থায়ী। সালমানের আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

শেয়ার করুন