ব্যাংকে অলস টাকার পাহাড় বাড়ছেই। বিনিয়োগকারীরা রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিনিয়োগে যেতে চাইছেন না। ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাগিদ দিচ্ছে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে।
সূত্র জানায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পড়ে আছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা বলছেন, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে অলস টাকা আরো বাড়বে।
সূত্র জানায়, মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে অলস টাকার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। জুনে এর পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকা। আর সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে এসে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। যা মোট তারল্যের প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীরা বড় কোনো বিনিয়োগে যেতে চাইছেন না। জানতে চাইলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বাদল বাংলানিউজকে বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা শংকায় আছি। এটাই স্বাভাবিক। কোন সরকার আসবে, নীতি কি হবে। একেক সরকার একেকভাবে দেশ পরিচালনা করে। তাই ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিতে যেতে চাইছেন না। বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে বেড়ে যাচ্ছে অলস টাকা। মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিও কমে গেছে। কমেছে কাঁচামাল আমদানিও।
একই ব্যাপারে বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. এহসান খসরু বাংলানিউজকে বলেন, বিনিয়োগে রাজনৈতিক পরিস্থিতির শংকা তো কাজ করছেই। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে যাচ্ছে না। তাই ঋণ প্রবাহ সবশেষ হিসেবে এক অংকে নেমে এসেছে। এটি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিবিদদের অর্থনৈতিক কর্মসূচি থাকতে হবে। তাদের আনতে হবে আরো বেশি উৎকর্ষতা।
তিনি বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ নিয়ে শংকা থাকায় অনেকে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। তাই বলব, আমাদের দেশের প্রবৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানায়, ২ সেপ্টেম্বর সোমবার) ব্যাংকিং খাতে ৮০ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা অলস অবস্থায় পড়ে আছে।
সূত্র জানায়, একটি তফসিলি ব্যাংককে তার তলবি ও মেয়াদী দায়ের সব মিলিয়ে ১৯ শতাংশ তারল্য হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রাখতে হয়। কিন্তু ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য থাকার কারণে রেখেছে প্রায় ৩১ শতাংশ।
সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সরকারের সাড়ে চার বছরের বেশির ভাগ সময়ই তারল্য সংকটে ভুগেছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু এবারই প্রথম উল্টো চিত্র দেখতে হলো ব্যাংকগুলোকে।
এর আগে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলানিউজকে বলেছিলেন, রাজনৈতিক এ পরিবেশে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করবে কীভাবে। যেখানে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে ছাত্র সংগঠনগুলো। আমরা মনে করি না বিনিয়োগের কোনো পরিবেশ বর্তমানে আছে।
সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসে সংযত মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যক্তি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৫ শতাংশের কিছু বেশি।
এছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ব্যাংকিং খাতে অলস টাকা ছিল ৬০ হাজার কোটি। এর আগে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৫৮ হাজার কোটি। ডিসেম্বরের পর থেকেই প্রতি মাসেই বেড়ে যাচ্ছে অব্যাহতভাবে বেড়ে যাচ্ছে টাকার পরিমাণ। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৬১ কোটি ৭০ লাখ, মার্চে ৬৬ কোটি, এপ্রিলে ৬৯ কোটি, মে মাসে দাঁড়ায় ৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর সবশেষ জুনে তা ৭০ কোটি ৬৪৪ লাখ টাকা গিয়ে ঠেকে।
সূত্র আরও জানায়, বিনিয়োগের মন্দা দেখে গত ২৫ আগস্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে। তবে বড় বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে না এলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ঋণের সুদের হার সহনীয় করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।








