পশুখাদ্যের মাত্রাতিরিক্ত দাম : দিশেহারা খামারিরা : চট্টগ্রামে ছয় মাসে বন্ধ অর্ধশত দুগ্ধখামার

0
150
Print Friendly, PDF & Email

চট্টগ্রামে পশুখাদ্যের দাম অত্যধিক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত ছয় মাসে প্রায় অর্ধশত দুগ্ধখামার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন অনেক খামারি। যারা টিকে আছেন, তারা খামারের গরুর সংখ্যা কমিয়ে ফেলছেন।
ডেইরি খামারিরা জানিয়েছেন, দুগ্ধখামারের জন্য অতিব প্রয়োজনীয় প্রধান চারটি উপাদানের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ডেইরি খামারিরা।
চট্টগ্রাম ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওমর জানান, পশুখাদ্য ও ওষুুধের মাত্রাতিরিক্ত দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন খামারিরা। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি-মার্চে ৩৫ কেজি বস্তার পাতা ভুষি ছিল ৭৩০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১১শ’ টাকায়। গমের ভুষি ৫০ কেজির বস্তা ছিল ৭শ’ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১১শ’ টাকায়। মুগ পাউডারের দাম বেড়ে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। পাঁচ টাকার এক কেজি শুকনো খড় এখন ১৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া পশুখাদ্যের পাশাপাশি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে ওষুধের দামও। কোনো কোনো ওষুধের দাম প্রায় দু’তিনগুন হয়ে গেছে। বেড়ে গেছে শ্রমিকের মজুরিও। বর্তমানে প্রতিলিটার দুধ উত্পাদন করতে খরচ পড়ছে প্রায় ৬৩ টাকা। কিন্তু খরচের তুলনায় দুধের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ অবস্থায় খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক খামারি গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। গত চার মাসে প্রায় ৩১টি দুগ্ধখামার বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগেও বেশকিছু দুগ্ধখামার বন্ধ হয়ে গেছে। দেনার দায়ে অনেক খামারি গরু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে পশুখাদ্যের পাইকারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান চাক্তাইয়ের হাজী জয়নাল আবেদিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী হারুনুর রশিদ জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিবছর পশুখাদ্যের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ এ সময় অনেক খামারি শুধু কোরবানির গরু মোটাতাজা করেন। তাই এ সময় পশুখাদ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে দামও বেড়ে যায়। আগামী তিন সপ্তাহ পর পশুখাদ্যের দাম স্বাভাবিক হতে শুরু করবে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, গত চার মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়া খামারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নগরীর শেরশাহ বাংলাবাজারের রাশেদ ব্রাদার্স ডেইরি ফার্ম, উত্তর আমবাগানের সেলিনা ডেইরি ফার্ম, উত্তর পাহাড়তলীর এনএন ডেইরি ফার্ম, চান্দগাঁও খাজা রোডের সালওয়া ডেইরি ফার্ম, ওসমানিয়া গ্লাসশিট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন শাহ আমানত ডেইরি ফার্ম, বাকলিয়া রাহাত্তারপুলের ইসকান্দরের ফার্ম, বাকলিয়া বলিরহাটের খোরশেদের ফার্ম, উত্তর চান্দগাঁওয়ের চৌধুরী ডেইরি ফার্ম, পাহাড়তলী জালালাবাদের তসলিম ডেইরি ফার্ম, উত্তর পতেঙ্গার শাম্পী ডেইরি ফার্ম, খুলশীর কাদের ডেইরি ফার্ম এবং জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ার রাশেদুল ইসলামের ফার্ম।

শেয়ার করুন