জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে

0
52
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উদ্দেশ্যে ২৫ অক্টোবরের পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন আর বসবে না। মন্ত্রিসভা থাকলেও রুটিন ওয়ার্কের বাইরে মন্ত্রিসভায় নীতিনির্ধারণী কোনো বিষয়ে আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হবে না। ২৬ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। সোমবার সচিবালয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠক সূত্র ও বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়ার দেয়া সংবাদ ব্রিফিং থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশে বলেন, যেহেতু ২৫ অক্টোবরের পর মন্ত্রিসভা নীতিনির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না এবং ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকও বসবে না, সেহেতু এ সময়ের মধ্যে পেন্ডিং থাকা গুরুত্বপূর্ণ সব এজেন্ডা সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেভাবে গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচন হয় এখানেও সেভাবে সংবিধান মেনে নির্বাচন হবে। কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি যাতে আর জোর করে ক্ষমতা দখল করতে না পারে সে পথ রুদ্ধ করতেই হবে। তিনি সচিবদের বলেন, কেউ বা কোনো গোষ্ঠী যাতে ভবিষ্যতে ক্ষমতা দখল করে রাজনীতির খাতায় নাম লেখাতে না পারে সেজন্য আমাদের সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকবে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে, জনগণ যাকে ভোট দেবে তারা সরকার গঠন করবে। এ পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগ বা মহাজোট নির্বাচিত হলে ক্ষমতায় ফিরে আসবে। আর হেরে গেলে বিরোধী দলে থাকবে। কিন্তু যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন উন্নয়নের চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। কেননা, সরকার আসবে ও যাবে। কিন্তু আপনারা সরকারের স্থায়ী অংশ। তাই আপনাদের এ ধারা ধরে রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে বলে থাকেন বর্তমান সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা মোটেই সত্য নয়। বরং এ বিষয়ে নির্ধারিত একটি কমিটি এক বছর ধরে ২৭টি বৈঠক করে সমাজের সব পক্ষের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছে। তিনি বলেন, সংবিধান নিয়ে বিতর্ক যাই হোক না কেন তাদের সরকার গণতান্ত্রিক পন্থায় জাতীয় নির্বাচন করে সংসদীয় গণতন্ত্রের শুভ সূচনা করে যেতে চায়। এ বিষয়ে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ শুভ কাজটি সম্পন্ন করতে দেশের বেশিরভাগ জনগণ তাদের সঙ্গে রয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচন হবে এবং তাদের সরকার যে কোনো মূল্যে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর রাখবে। তিনি সচিবদের বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে মন্ত্রীরা নির্বাচন কাজে ব্যস্ত থাকলেও সচিবদের দক্ষতার সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজ চালিয়ে নিতে হবে।
বৈঠক শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিফ্রিং করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া। তিনি ব্রিফিং শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার যেমন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে চায় এক্ষেত্রে তাদের অবস্থান হলো তারাও (সচিবরা) সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছেন।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক চলে টানা সাড়ে ৩ ঘণ্টা। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্ট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর উপস্থিত ৫৮ সচিবের মধ্যে একে একে ২২ সচিব বক্তব্য দেন। সচিবদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা পর্বে প্রধানমন্ত্রী সচিবদের বক্তব্যের সূত্র ধরে বিভিন্ন মন্তব্য, নির্দেশনা ও মতামত দেন। বেশিরভাগ সিনিয়র সচিবসহ সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিকিউকে মুসতাক আহমেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মোঃ শহিদ খান, শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, অর্থ বিভাগের সচিব ফজলে রাব্বি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব তারিক উল ইসলাম, তথ্য সচিব মরতুজা আহমেদসহ প্রমুখ সচিব তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন