ড. ইউনূসকে নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য

0
104
Print Friendly, PDF & Email

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যকে ‘আক্রমণাত্মক’, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘বিষোদগারমূলক’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত পরিচালকেরা।
গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালকদের পক্ষে তাহসিনা খাতুন গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ীকে জনসমক্ষে হেয় করার, তাঁর সম্মান নষ্ট করার অপচেষ্টা যে প্রকারান্তরে জাতি হিসেবে নিজেদের ছোট করা, তা বোঝার ক্ষমতাও বোধ হয় এসব নেতা-মন্ত্রীর নেই। আমরা এই নেতা-মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, জাতিকে আর ছোট করবেন না। দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতি মনোযোগী হোন, নইলে দেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।’
সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে গণমাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুদ্রঋণের অগ্রণী প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকেরা এ বিবৃতি দিয়েছেন। সংস্থাটির নির্বাচিত নয়জন পরিচালকের পক্ষে গতকাল গণমাধ্যমে তাহসিনা খাতুনের সই করা বিবৃতি পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, একজন মন্ত্রী জনসভায় বলেছেন, ড. ইউনূস নাকি সুদখোর এবং মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। দেশের বর্তমান সরকারপ্রধানও এর আগে ড. ইউনূসকে আকারে ইঙ্গিতে সুদখোর বলেছেন। কিন্তু ড. ইউনূস তো ব্যাংকের মালিক নন, তাহলে তিনি সুদখোর হলেন কীভাবে? সুদ খেলে মালিকেরা খেতে পারেন। সে হিসেবে সরকারই বরং এর অংশ নিচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক, পিকেএসএফ, গ্রামীণ ব্যাংক রিভিউ কমিটি—সবাই এই মত ব্যক্ত করেছে যে বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকই সবচেয়ে কম সুদ নিয়ে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস বিষয়ে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিএ তদন্ত করেছে ও করছে এবং এ পর্যন্ত মানি লন্ডারিং, অর্থ আত্মসাৎ বা তহবিল অপব্যবহারজাতীয় কোনো অনিয়ম তারা খুঁজে পায়নি। এর পরও জনসভায় এ ধরনের কথা বলাটা ড. ইউনূস সম্পর্কে ব্যক্তিগত বিষোদগার ছাড়া আর কিছু নয় বলে আমরা মনে করি।’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সরকার সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন বিধি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন যে নির্বাচনী বিধি চালু করতে চাইছে, তাতে গ্রামীণ ব্যাংকে শুধু রাজনীতিই নয়, দুর্নীতিও ঢুকবে; ধ্বংস হয়ে যাবে এই ব্যাংক।’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্দলীয় সরকার ছাড়া এই মুহূূর্তে দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন কোনো কোনো মন্ত্রী। তাঁর এই বক্তব্যকে সরকারবিরোধিতা, সংবিধানবিরোধিতা অভিহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধিতা বলে এই বক্তব্যের জন্য তাঁকে জেলে পাঠানোরও সুপারিশ করা হয়েছে! তাঁরা (মন্ত্রীরা) জানেন না বা জানতে চান না যে দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামতই ড. ইউনূসের কথায় প্রতিফলিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একজন মন্ত্রী বলেছেন, ‘ড. ইউনূস জাতির কোনো দুর্যোগে কখনো এগিয়ে যান না। শহীদ মিনার বা স্মৃতিসৌধে যান না। তিনি রানা প্লাজায়ও যাননি। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরপরই তিনি সেখানে ত্রাণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর লেখা প্রবন্ধ দেশে ও বিদেশের পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক উদ্যোগও সৃষ্টি করেছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের মন্ত্রীরা এসব চোখে দেখেন না।’

শেয়ার করুন