উন্নতি নেই আনোয়ার হোসেনের

0
78
Print Friendly, PDF & Email

সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাৎ করেই স্বাস্থ্যের অবনতি হলে চলচ্চিত্র অভিনেতা আনোয়ার হোসেনকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর চিকিৎসায় তাঁর স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হয়। এভাবেই চলছে আনোয়ার হোসেনের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা।
স্কয়ার হাসপাতাল থেকে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী নাসিমা আনোয়ার প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘হঠাৎ দুই দিন ভালো তো এক দিন স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন।’
নাসিমা আনোয়ার এ-ও বলেন, ‘উন্নত চিকিত্সার জন্য আনোয়ার হোসেনকে দেশের বাইরে নেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতির কথা শুনেছিলাম। আমাদের বিশ্বাস, দেশের বাইরের কোনো ভালো হাসপাতাল থেকে তাঁর স্বাস্থ্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আনা হলে আরো ভালোভাবে চিকিত্সাসেবা দেওয়া সম্ভব। এতে তিনি আবার ভালো হয়ে উঠবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’
গত সপ্তাহে আনোয়ার হোসেনকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির খবর শোনা গিয়েছিল। সেটার সর্বশেষ অবস্থা কী জানতে চাইলে নাসিমা আনোয়ার বলেন, ‘সরকার আনোয়ার হোসেনের চিকিত্সার ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখাচ্ছে, যা আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। এটা শুনেছি, সরকারি সহযোগিতায় তাঁকে দেশের বাইরে নেওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন নানাভাবে আনোয়ার হোসেনের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।’
রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সক মির্জা নাজিম উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে আনোয়ার হোসেনের চিকিত্সা চলছে এখন।
আনোয়ার হোসেনের জন্ম জামালপুর জেলার সরুলিয়া গ্রামে। অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’, ‘লাঠিয়াল’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ভাত দে’সহ পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি বাংলার মুকুটহীন সম্রাটে পরিণত হন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাচসাস, পাকিস্তানের নিগারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গুণী এ অভিনয়শিল্পী। ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। পরে আরও দুবার তিনি এ সম্মানে ভূষিত হন। এ ছাড়া ২০১১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান আসর থেকে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন এই গুণী শিল্পী। বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৫ সালে একুশে পদকও পান তিনি। আনোয়ার হোসেনের চার ছেলে ও এক মেয়ে। চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে থাকেন সুইডেনে। অন্য তিন ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে।

শেয়ার করুন