বিদেশি হামলা প্রতিহতে প্রস্তুত দামেস্ক : কেন্দ্রীয় কমান্ডের দায়িত্ব নিলেন আসাদ, কংগ্রেসে সিরিয়ায় হামলার অনুমতি চাইলেন ওবামা

0
56
Print Friendly, PDF & Email

সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযান চালানোর ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের অনুমোদন চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসে দেয়া এক বক্তৃতায় ওবামা সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে পুনরায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এনে বলেন, এটি মানবিকতার বিরুদ্ধে অপরাধ যা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি তৈরি করেছে।
বারাক ওবামা বলেন, আগামীকাল, আগামী সপ্তাহে বা নিকট ভবিষ্যতে এই হামলা হতে পারে। তবে অভিযান হলেও তা হবে সীমিত আকারে কিন্তু রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, দামেস্কে যা ঘটেছে, সেদিকে আমরা চোখ বন্ধ করে রাখতে পারি না।
তবে হামলার আগে তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে চান। এ মাসের ৯ তারিখে মার্কিন কংগ্রেসের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওবামার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা। সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব এর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হবে।
হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকালে ওবামা কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে এই বিষয়টি পরিকল্পনায় ছিল না।
এদিকে, রাসায়নিক হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের যে পরিদর্শকরা সিরিয়ায় তদন্ত কাজ করছিলেন, নমুনা সংগ্রহ শেষে তারা এখন নেদারল্যান্ডসে এসে পৌঁছেছেন। মাটি, রক্ত, আহতের চুল ইত্যাদি নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পরে তারা তিন সপ্তাহের মধ্যে জাতিসংঘে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন। সিরিয়া ইস্যুতে কায়রোকে জরুরি বৈঠক ডেকেছে আরব লিগ। অন্যদিকে, ফ্রান্সের বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতা দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারও উচিত সামরিক অভিযানের আগে বিষয়টি নিয়ে ভোটগ্রহণ করা।
এদিকে রণকৌশল নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট আসাদ।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ নিজেই সামরিক অভিযানের কেন্দ্রীয় কমান্ড পরিচালনা করবেন এবং একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনি সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন।
লেবাননের দৈনিক আদ-দিয়ার জানিয়েছে, আসাদ বেশিরভাগ সময়ই টেলিফোন কলগুলোর জবাব দিচ্ছেন না এবং ভূগর্ভস্থ একটি ঘাঁটিতে একদল উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে যুদ্ধ-কমান্ড কেন্দ্রের পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। সিরিয়ার ওপর মার্কিন হামলা আশঙ্কা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ খবর প্রকাশিত হলো।
বাশার আসাদের স্ত্রী আসমা আসাদ তার সন্তানকে নিয়ে একটি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন। সিরিয়া সরকারের অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও তাদের পরিবার-পরিজনকে একটি সুরক্ষিত ও ভূগর্ভস্থ নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিয়েছেন।
সিরিয়ায় যেসব ঘরবাড়ির মধ্যে ভূগর্ভস্থ কক্ষ রয়েছে সেসব বাড়িতে নাগরিকদের আশ্রয় দেয়ার এবং তাদের পানিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করতে বাড়ির মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। পত্রিকাটি আরও জানিয়েছে, দামেস্কের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল তুঙ্গে রয়েছে এবং তারা সবাই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
অন্যদিকে সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ওয়ায়েল আল-হালকি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘বিদেশি সামরিক হামলা প্রতিহতের জন্য তার দেশ প্রস্তুত। সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর আঙুল ট্রিগারের ওপর রয়েছে এবং হামলা হওয়ামাত্রই ট্রিগারগুলো তত্পর হয়ে উঠবে।’ সিরিয়ার জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে শনিবার প্রধানমন্ত্রী হালকি আরও বলেন, ‘সিরিয়ার সেনাবাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সম্ভাব্য যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।’ মার্কিন সরকার যখন সিরিয়ায় সামরিক আগ্রাসন চালানোর হুমকি দিচ্ছে তখন এ ঘোষণা দিলেন সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সিরিয়া সরকার রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে সাধারণ মানুষের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ তুলে দেশটির ওপর ‘সীমিত’ পর্যায়ের হামলা চালাতে চায় আমেরিকা। তবে দামেস্ক কোনো ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করে বলছে, আক্রান্ত হলে সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে সিরিয়া।

শেয়ার করুন