বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা কাজে দিচ্ছে না

0
41
Print Friendly, PDF & Email

মামলা জটিলতায় গত ২৮ বছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আটকে আছে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা।

তাই ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে সহজ উপায়ে কর মামলা নিষ্পত্তিতে আদালতের বাইরে সমঝোতার ভিত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সেল গঠন করা হয়। কিন্তু তাতেও সাফল্য ধরা দিচ্ছে না।

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে বিভিন্ন করাঞ্চলগুলো এডিআরের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তিতে ১ হাজার ৭০০ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়। অধিকাংশ এ সব মামলা শুল্ক নিয়ে। তবে আয়কর, মূসক ও অন্যান্য খাতে মামলায় জট কম। এ সব মামলা নিষ্পত্তি হলে আদায় হওয়ার কথা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

কিন্ত এনবিআর সম্প্রতি মোট ৬০৩ কোটি আদায় করতে ১৬৮টি মামলা এডিআরে অন্তর্ভুক্ত করে। যার মধ্যে আয়কর বিভাগের ১২০টি মামলার নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওনা মোট ১০০ কোটি টাকা নির্ধারণ হয়।

যেখানে নগদ আদায় হয় মাত্র ৫৫ কোটি টাকা। আর বাকী ৪৫ কোটি টাকা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদায় করা হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা যায়।

এনবিআর সূত্রে আরো জানা যায়, বাকী ৪৮ টি মামলায় মোট পাওনা অর্থ দাড়ায় ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০৩ কোটি টাকা আধা সেটেলমেন্ট করে বা সমঝোতায় মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা যাবে ১০০ কোটি টাকা। কিছু কোম্পানির সঙ্গে এনবিআরের একমত না হওয়ায় অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা।

এদের মধ্যে ১টি মামলায় আটকে আছে ১৩৩ কোটি টাকা এবং অন্য একটি মামলায় ৬৪ কোটি টাকা। এভাবে বাকি মামলাগুলোতে মোট ৩০০ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

তবে এনবিআর দাবি করছে, এ পদ্ধতি প্রথমে করদাতারা গুরুত্ব না দিলেও চলতি বছরের জানুয়ারি সময়ে পর থেকেই আগ্রহী বাড়তে থাকে। ফলে দেখা গেছে জুলাই মাস অপেক্ষা আগস্ট মাসে এডিআরে মামলার সংখ্যা বেড়েছে।

গ্রাহকের কোনো প্রকার হয়রানি না থাকায় অল্প সময়ে ব্যবসায়িরা বকেয়া কর দিতে আগ্রহী হচ্ছে। আবেদনের মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় বিধায় এ পদ্ধতিতে মামলা জটিলতা ও রাজস্ব আদায়ে গতি এসেছে ।

এ বিষয়ে এনবিআরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য কালিপদ হাওলাদার বলেন, এডিআর অত্যন্ত স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত রাজস্ব মামলার সমাধান প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে করদাতারা সহজে তাদের মামলা জটিলতার সমাধান পাবে। ফলে কর দেবার ভয় দূর করে দিনে দিনে এ প্রক্রিয়া জনপ্রিয় হচ্ছে। 

সূত্র মতে, এ প্রক্রিয়ায় আদালতের বাইরে গিয়ে এনবিআর ও করদাতাদের বিদ্যমান রাজস্ব আদায়ে সমস্যা সমাধা দেন। কর আদায়ের সহজ কৌশল হিসেবে নিয়ে স্টোক হোল্ডার, এফবিসিসিআই নেতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ি ও আইনজীবীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা হয়।

এ পদ্ধতিতে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী দুটি পক্ষের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেবেন।

উভয় পক্ষ এ রায় মানলে বিরোধটি নিষ্পত্তির পর্যায়ে চলে যাবে। যদি কোন পক্ষের আপত্তি করেন তাহলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

মধ্যস্থতাকারী রায় মানতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে অতি স্বল্প সময়ে মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।

১ জন সচিবের নেতৃত্বে ৩ জন রাজস্ব কর্মকর্তার সম্বন্বয়ে গঠিত সেলে এ বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। এনবিআর কর্মকর্তা, সদস্য ও মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ ১৮ সদস্য নিয়ে এ প্রক্রিয়ায় কাজ করছে বলে এনবিআর সূত্র জানায়।

শেয়ার করুন