ধর্ষণ ও খুনের পর শিশুর লাশ কবরে ফেলে পলায়ন

0
82
Print Friendly, PDF & Email

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার পর লাশ কবরস্থানে লুকিয়ে রেখেছিল ধর্ষক।গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে এলাকাবাসী শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

শিশুটির নাম স্বপ্না খাতুন। তার বাবা সিদ্দিকুর রহমান। বাড়ি রাজশাহী নগরের বড়বনগ্রাম মাস্টারপাড়ায়। স্বপ্না স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

আজ শনিবার সকালে পুলিশ ধর্ষণের ঘটনায় সাইদুর রহমান (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, সাইদুর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বিবাহিত। তাঁর সহযোগীর নাম মাসুদ রানা (২৫)। তিনিও বিবাহিত। তাঁদের বাড়ি উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকার পাকুড়িয়া মহল্লায়।

ওই ঘটনায় স্বপ্নার বাবা সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে নগরের শাহ মখদুম থানায় আজ শনিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে আজ সকালেই পুলিশ পাকুড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইদুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। তবে মাসুদ রানাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ মখদুম থানার উপপরিদর্শক নূরুল করিম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, মেয়েটির বাবার পৈতৃক বাড়ি নওহাটা পৌর এলাকার মাঝিগ্রামে। সেখানে এখনো তার দাদি থাকেন। মেয়েটি দাদির বাড়িতে থাকত। সেখান থেকে গতকাল দুপুরে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পাকুড়িয়ায় তার ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। বিকেলেই সেখান থেকে ফিরে আসে। কিন্তু রাতেও বাড়িতে না পৌঁছালে উভয় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

পরে পাকুড়িয়া মহল্লায় চান মিঞার কবরস্থানের পাশে স্বপ্নার এক পাটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়, কবরস্থানেই তাকে পাওয়া যেতে পারে। একপর্যায়ে গোরস্থানের একটি পুরোনো কবরের ভেতরে রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। তার মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল। দুই হাত বাঁধা ছিল।

রাতেই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নূরুল করিম আরও বলেন, সাইদুর ও মাসুদ গতকাল বিকেলে ছোট একটি মেয়ের পিছু নিয়েছিল বলে পাকুড়িয়ার এক মেয়ে পুলিশকে জানায়। এর সূত্র ধরে পুলিশ সাইদুরকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বলেন, সাইদুর পুলিশের কাছে শিশুটিকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

শেয়ার করুন