সিরিয়াকে বান কি মুনের কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি

0
62
Print Friendly, PDF & Email

জাতিসংঘের মহাসচির বান কি মুন বলেছেন, অনতিবিলম্বে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগটি তদন্ত করা উচিত। সেই সঙ্গে আরও বলেছেন, মানবতাবিরোধী এ ধরনের অপরাধের জন্য দায়ীদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এদিকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘের তদন্ত দলকে ঢোকার অনুমতি দিতে সিরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। দক্ষিণ কোরিয়াতে অবস্থানকারী বান কি মুন শুক্রবার জাতিসংঘের তদন্ত দলকে সিরিয়ায় ঢোকার অনুমতি দিতেও আসাদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মহাসচিব বান কি মুন জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক প্রতিনিধি  অ্যাঙ্গেলা কেনকে জরুরি তদন্তের ব্যাপারে দামেস্ককে চাপ দিতে সেখানে পাঠাচ্ছেন। বান কি মুন বলেছেন আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না সরকার বা বিরোধী পক্ষ যারাই হোক না কেন এ ব্যাপারে আসল সত্য প্রকাশের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে। তিনি বলেন, বুধবারের ওই ঘটনার কিছু চিত্রে শিশুদেরকেও দেখা গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।  যে কোন পরিস্থিতিতে  যে কোন স্থানে যে কেউই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করুক না কেন সেটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মানবতা বিরোধী এ ধরনের অপরাধে দায়ীদেরকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বান বলেছেন, দুই বছর ধরে প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের চলমান লড়াইয়ের পরিস্থিতি আর জটিল আকার ধারণ করছে। এতে নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১০০,০০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে রাশিয়া থেকে জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তাদেরকে সিরিয়ায় ঢুকতে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ  হামলার স্থান পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়ার জন্য আসাদ বিরোধীদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ হামলার ওই স্থানের দখলে রয়েছেন আসাদ বিরোধীরা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে ল্যাভরভের টেলিফোন আলাপের পরই এ আহ্বান জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে। আসাদ বিরোধীরা দাবি করেছেন দামেস্কের বাইরে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত ঘুটা হামলায় ১৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নারী এবং শিশু। এদিকে জাতিসংঘের দুটি সংস্থা গতকাল জানিয়েছে সিরিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে অন্যত্র আশ্রয় গ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ লাখের সীমা অতিক্রম করেছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে নিবন্ধিত প্রায় ৭৪০,০০০ শিশুর বয়সই ১১ বছরের নিচে। এসব শরণার্থীরা সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী লেবানন, জর্ডান, তুরস্ক, ইরাক এবং মিশরে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। অনেকে আবার উত্তর আফ্রিকা এবং ইউরোপের দিকেও অগ্রসর হয়েছে।  ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক বলেছেন, ১০ লাখতম শরণার্থীর সংখ্যাটি কেবল একটি সংখ্যা নয়। এ শিশুরা তাদের বাড়িঘর এমনকি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর থেকে বলা হয়েছে সিরিয়ার ভেতরে সঙ্কটের কারণে ৭০০০ শিশু নিহত হয়েছে। আর ২০ লাখ শিশু বাড়িঘর হারিয়েছে। হাইকমিশনার অ্যান্থনিও গুটার্স সিএনএনকে বলেছেন, সিরিয়াতে একটি প্রজন্ম ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সিরিয়া সঙ্কটের সম্মুখীন অনেক শিশুই প্রবলভাবে মানসিক ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেছেন, আমি অনেক শিশুকে দেখেছি তারা এখন আর কথা বলে না। অনেকে আবার ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। এসব শিশুর অনেকেই বেশ অদভুত আচরণ করে বলে তিনি উলেুখ করেন।   

শেয়ার করুন