ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নন: বিচারপতি আউয়াল

0
204
Print Friendly, PDF & Email

হাইকোর্টের সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি আবদুল আউয়াল বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের কোন বিচারপতি যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ পান তখন তিনি আর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি থাকেন না। তখন তিনি তার শপথের আওতা বহির্ভুত হয়ে পড়েন। ট্রাইব্যুনালের চাকরি একটি লাভজনক পদ। এই ট্রাইব্যুনাল প্রধান বিচারপতির নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। যে বিচারপতি একবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে চাকরি করবেন তিনি আর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে ফিরতে পারেন না। বিচারপতি আবদুল আউয়াল ২০শে আগস্ট অবসরে যান। এরআগে ১লা আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি তাকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছিল। সংবিধান অথবা সংবিধানের কোন সংশোধনী অবৈধ ঘোষণায় হাইকোর্টের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি আবদুল আউয়াল। তিনি বলেন, একজন বিচারপতি সংবিধান রক্ষার শপথ নেন। সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে সংবিধান অথবা সংবিধানের কোন অংশ বাতিল করা যায় কি? যে সংবিধান সার্বভৌম সংসদ কতৃক গৃহীত। তিনি বলেন, আজ থেকে ৪০ বছরের কিছু সময় আগে আমি এই আঙ্গিনায় আইনজীবী হিসেবে যোগ দেই। ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময়ে একদিন আমি মাজার গেইট দিয়ে হেটে কোর্টে আসছিলাম। পেছনে গাড়ী থামিয়ে নেমে এসে ড. জহির আমাকে বললেন, এই হাঁটছ কেন? তুমি বিচারপতি হবে। এখন তুমি আমার ছাত্র। তখন হব আমি তোমার ছাত্র। জোর করে তিনি গাড়িতে তুলে নিলেন। শপথ নেয়ার পর আজ এগারো বছর উত্তীর্ণ করেছি। এই সময়ের মধ্যে কঠিন রাজনৈতিক বিভক্তির মধ্যেও নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার চেষ্টা করেছি। এক-এগারোর সময় রাজনৈতিক নেতারা যখন রাজনৈতিক হেনস্থা হয়েছিলেন তখন এই কোর্ট থেকে বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান এক সাহসী রায় দেন। ঐ রায়ের ফলে রাজনৈতিক নেতাদের হেনস্থা কমে যায়। তখন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছিলেন, আমরা মোর্শেদ পেয়ে গেছি, মোর্শেদ পেয়ে গেছি। কিন্তু সেই বিচারপতি যখন দুই দুই বার সুপারসিড হন, তখন এই বার থেকে যথাযথ কোন প্রতিবাদ বা ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। বারের ভূমিকা যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে উন্নত বিচার ব্যবস্থা আশা করা যায় না। সাহসী বিচারক তৈরি হবে না।

শেয়ার করুন