বিতর্কিত কমিশনের অধীনে নির্বাচন নয়: এরশাদ

0
100
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত আখ্যায়িত করে এ কমিশনের অধীনে আগামী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।বিতর্কিত কমিশনের অধীনে নির্বাচন নয়: এরশাদ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ফাইল ছবি
 
শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
 
প্রাক্তন জাতীয় ছাত্র সমাজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
 
এরশাদ বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা হারিয়েছে। বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় পার্টি কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় না।”
 
এরশাদ বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে গেছে। তাছাড়া আমি কখনোই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে ছিলাম না। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমাদের ওপর অনেক অবিচার হয়েছে। আমি চেয়েছিলাম একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, যারা কোন প্রভুর কথায় কাজ করবে না। কিন্তু এ কমিশন সে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।”
 
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন নিজেই নিজের ক্ষমতা একর পর এক ছেড়ে দিচ্ছে।  যে নির্বাচন কমিশন নিজের ক্ষমতা ছেড়ে দেয়, সে কমিশনের ওপর আস্থা থাকতে পারে না। তাই আস্থা হারিয়ে ফেলা বিতর্কিত কমিশনের অধীনে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না।”
 
সংসদীয় গণতন্ত্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে সরকার পদ্ধতিরও। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করতে হবে। তাহলে দেশ থেকে সকল অশান্তি দূর হয়ে যাবে।”
 
নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ‘এক চুলও নড়ব না’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, “গণতন্ত্রের অর্থই হলো সমঝোতা, নমনীয়তা ও আলোচনা। এ বিষয়গুলো ছাড়া গণতন্ত্র হতে পারে না। তাই প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা কোনো রাজনীতিকের ভাষা হতে পারে না।”
 
সংলাপের জন্য দুই নেত্রীকে দেওয়া নিজের চিঠির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সংঘাতের পথ পরিহার করে সংলাপের জন্য আমি দুই নেত্রীকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা তা শুনলেন না। শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিবও ফোন করে সংলাপের তাগিদ দিয়েছেন।”
 
তিনি বলেন, “নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না। তাই নির্বাচন হতেই হবে। এজন্য আলোচনা ও সমঝোতার কোন বিকল্প নেই।”
 
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সাল আহমেদ চিশতীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ, জিয়া উদ্দিন বাবলু, শেখ সিরাজুল ইসলাম, এবিএম তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মোস্তফা জামাল হায়দারসহ জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক নেতারা।

শেয়ার করুন