ঋণ নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

0
54
Print Friendly, PDF & Email

প্রান্তিক বা মার্জিন ঋণসংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার জারি করা নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে তিনটি ব্রোকারেজ হাউসকে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, প্রান্তিক ঋণসংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করায় ডিবিএল সিকিউরিটিজ, পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ ও পিএফআই সিকিউরিটিজকে সম্মিলিতভাবে সাত লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিবিএল সিকিউরিটিজকে এক লাখ টাকা এবং পিএইচপি স্টকস ও পিএফআই সিকিউরিটিজকে তিন লাখ করে মোট ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিবিএল সিকিউরিটিজ তাদের একজন বিনিয়োগকারীকে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা ঋণসুবিধা দিয়েছে, যা ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর ও ২০১০ সালের ২৫ জুলাই জারি করা নির্দেশনার পরিপূর্ণ লঙ্ঘন।
এ ছাড়া পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ তাদের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ১০ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি রেখে বিএসইসির সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধান লঙ্ঘন করায় প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
পিএফআই সিকিউরিটিজ তাদের একজন বিনিয়োগকারীকে প্রকৃত গড় মূলধনের ২৫ শতাংশের অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বিএসইসি বলছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ও ২০১১ সালের ১০ জানুয়ারি জারি করা দুটি নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে কমিশনের গতকালের সভায় জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অ্যাপোলো ইস্পাতের চাঁদা: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় থাকা কোম্পানি অ্যাপোলো ইস্পাতের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর চাঁদা গ্রহণের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএসইসি। এর ফলে কোম্পানিটির আইপিওর চাঁদা গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকল না।
এর আগে বিএসইসির ৪৬০তম কমিশন সভায় অ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ৪৬৮তম সভায় কোম্পানিটির চাঁদা গ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে বিএসইসি। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। স্থগিতাদেশ জারির পর বিএসইসি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে। এই তদন্ত ও কোম্পানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে গতকালের সভায় স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।
কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ২২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১২ টাকা অধিমূল্য বা প্রিমিয়াম যোগ করে আইপিওতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২২ টাকা। ইতিমধ্যে বিএসইসি তা অনুমোদনও করেছে।

শেয়ার করুন