চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনাবৃষ্টির কারণে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহতের আশঙ্কা : লোকসান বাঁচাতে সেচচার্জ মওকুফের দাবি

0
113
Print Friendly, PDF & Email

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে রোপা আমন চাষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি পেয়েই কৃষকরা আমন চাষ শুরু করেই অনাবৃষ্টির মুখে পড়ে কেউ কেউ ব্যয়বহুল ডিপ টিউবওয়েলের পানি দিয়ে ধান বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শ্রাবণ মাস পেরিয়ে গেলেও তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলের নাচোল, গোমস্তাপুর এবং সদর উপজেলার বেশিরভাগ ধানের ক্ষেত শুকিয়ে যায়। ফলে এ সময় বৃষ্টির অভাবে অনেক জমি অনাবাদি থাকে। তবে ঈদের আগ থেকে জেলার ৫টি উপজেলায় পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে কৃষকরা রোপা আমনের ১ম যাত্রায় কিছুটা রক্ষা পেয়েছে। জানা গেছে, জেলার ৫টি উপজেলায় ৪৮ হাজার ৪০৮ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এ পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৯৪৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমি এবার অনাবাদি রয়েছে। সেক্ষেত্রে এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ব্যাহত হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমন মৌসুমের শুরুতে তেমন বৃষ্টিপাত না থাকায় বরেন্দ্র অঞ্চলের বেশিরভাগ জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। পরে কিছু বৃষ্টিপাত হলে কৃষকরা তড়িঘড়ি করে আমন আবাদের চেষ্টা করে। তবে নাচোল, গোমস্তাপুর ও সদর উপজেলার বেশির ভাগ অঞ্চলে প্রথমে কৃষকরা আমন লাগিয়ে পানির অভাবে বিপদে পড়ে। পরে বিএমডিএ, পিডিবি ও কৃষিবিভাগ অনাবৃষ্টি এবং মাঠের অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত ডিপ টিউবওয়েল চালু করায় কৃষকরা অতিরিক্ত খরচ প্রদান করে তাদের ধান বাঁচাই। নাচোলের নিজামপুর হরেন হাঁসদা জানান, পানির অভাবে ধান যখন মরে যাচ্ছিল, তখন তারা চাপ প্রয়োগ করে অতিরিক্ত খরচ দিয়ে ডিপ টিউবওয়েল চালু করেন। তবে মৌসুমে পরিমাণমত বৃষ্টি না হলেই তাদের অতিরিক্ত খরচ করে ডিপের পানি নিলে তাদের ধানের খরচ উঠবে না। সেক্ষেত্রে কৃষকদের লোকসানের কথা চিন্তা করে সরকার যাতে সেচ চার্জ মওকুফ করেন, সেই দাবি করেছেন অধিকাংশ কৃষক। কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল কালাম জানান, জেলার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১৫৮ টন । তবে জেলার বাৎসারিক বৃষ্টিপাতের হার পর্যালোচনা করে কৃষি বিভাগের মতে, প্রকৃতির উপর নির্ভর রোপা-আমন চাষ এ অঞ্চলে প্রতিবছরই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেক্ষেত্রে খরা সহিঞ্চু জাতের ধান আবাদ এবং উঁচু জমিতে আমনের পরিবর্তে মুগ ডাল জাতীয় ফসল চাষের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের শষ্য ভা-ার হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের হার মারাত্মক ভাবে হরাস পাওয়ায় এ অঞ্চলের আগামীতে আমন চাষ হুমকির মুখে পড়বে। আমনসহ অন্যান্য ফসলের চাষ সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলের শষ্য ভা-ারের ঐতিহ্য ধরে রাখা যাবে না বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান।

শেয়ার করুন