বগুড়ায় জেএমবি’র আদলে বিইএম

0
141
Print Friendly, PDF & Email

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ’র (জেএমবি) মতো নতুন সংগঠন বিইএম’র খোঁজ পেয়েছে র্যাব। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব। র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে র্যাব-১২, বগুড়া কোম্পানির বিশেষ অভিযানে নতুন এ সংগঠনের তিন সদস্যকে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত তিন জঙ্গি সদস্যরা হলেন- দিনাজপুরের ফিরোজ আলম (৩৫), ঢাকার কমলাপুরের মো. নাহিদ (২০) ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বারহা শেখ ওরফে বাবু (২১)।

শুক্রবার ভোরে র্যাব-১২, বগুড়া ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানানো হয়। র্যাব জানায়, জেএমবির শীর্ষ নেতা বাংলা ভাইয়ের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পর বিইএম নামে নতুন এই জঙ্গী সংগঠন তারা সৃষ্টি করে অত্যন্ত গোপনে জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

র্যাব জানায়, বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার একটি টিনসেড ছাত্রাবাসে বিইএম এর একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মিরান হোসেন ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু সাঈদ এর নেতৃত্বে ঠনঠনিয়া এলাকার ওই ছাত্রাবাসে অভিযান চালায়।

র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের একটি অভিযান দল ওই ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখেন ট্রেনিং চলছে। এ সময় র্যাব তাদের পরিচয় দিলে ১৮ জন বিইএম সদস্যের মধ্যে ১৫ জন জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। বাকি তিনজনকে একটি বিদেশি একে টুটু সাব মেশিনগান, জার্মানির তৈরি একটি এসএমজি রাইফেল, আমেরিকার তৈরি একটি অত্যাধুনিক পিস্তল, একটি এমোনিশান ড্রাম, তিনটি ম্যাগজিন, ৮০ রাউন্ড গুলি, বাইনোকুলারসহ বিপুল সংখ্যক দেশিয় অস্ত্র, জিহাদি বই ও জঙ্গি ট্রেনিং সামগ্রীসহ আটক করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতে র্যাবের চার সদস্য আহত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। আহত র্যাব সদস্যরা হলেন- র্যাব-১২ এর ডিএডি আলিম, কর্পোরাল মতিয়ার ও জীবন এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিজীত। এ সময় র্যাব সদস্যরা ওই বাড়ি থেকে এসব অস্ত্র ও গোলা বারুদ গুলি উদ্ধার করে।

র্যাব-১২ ক্যাম্প সদস্যদের এ অভিযান সম্পর্কে র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এটিএম হাবিবুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, জেএমবি নিষিদ্ধ হওয়ার পর গোয়েন্দা তত্পরতার কারণে দীর্ঘদিন তাদের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক বিইএম এর সদস্যরা সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আটক তিনজনই নবগঠিত বিইএম-এর সামরিক শাখার সদস্য। এই সংগঠনের গোয়েন্দা শাখা, সামরিক শাখা ও প্রশিক্ষণ শাখাসহ বেশ কয়েকটি উইং গঠন করা হয়েছে। র্যাব সদস্যরা ওই বাড়ি থেকে প্রশিক্ষণের সময়সূচি উদ্ধার করেছে। এতে ভোর ৪টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণের সময়সূচি উল্লেখ রয়েছে।

র্যাব প্রমাণ পেয়েছে যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি নতুন নামে (বিইএম) আত্মপ্রকাশ করে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন